তৃতীয়দিনের সংঘর্ষে আশপাশের গ্রাম জড়িত হওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কালীকচ্ছ এলাকা। মঙ্গলবার সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় বিজিবি’র আঞ্চলিক অফিস সংলগ্ন সড়কে ধর্মতীর্থ ও সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৫ ঘণ্টার সংঘর্ষে উভয়পক্ষের প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় পুলিশকে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে।
পাওনা টাকার বিরোধে সৃষ্ট সংঘর্ষে নিহত ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার দাফনের পর গত সোমবার বিকালে ও রাতে কালীকচ্ছ বাজারে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফের পাওনা টাকার ঘটনায় ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার সঙ্গে বিরোধ হয়। এই বিরোধের জেরে গত রোববার রাতে কালীকচ্ছ বাজারে হাদিম মিয়ার সঙ্গে মোশাররফের বাক-বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় গ্রামের কয়েকশ’ লোক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষে বল্লমবিদ্ধ হয়ে হাদিম মিয়া নিহত হন। গত সোমবার বাদ আসর হাদিম মিয়ার লাশ দাফনের পর কয়েকশ’ লোক কালীকচ্ছ বাজারে সূর্যকান্দি গ্রামের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।
লুটপাট প্রতিহত করতে গেলে উভয় গ্রামের বাসিন্দারা আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর ওই সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। পুলিশ রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফাঁকা গুলি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। ততক্ষণে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়। আবার সেইদিন গভীর রাতে বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারো লুটপাট হয়। এর জেরে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উভয় গ্রামের লোকজন আবারো দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সড়কের উপর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে গোটা কালীকচ্ছ বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা সংঘর্ষের পর বেলা ২টার দিকে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন ও জামায়াত নেতা মাওলানা কুতুব উদ্দিনের সহায়তায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবাইদুর রহমান ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়ার নেতৃত্বে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবাইদুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ থামাতে থানা পুলিশের সঙ্গে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের কাজ করতে হয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয়পক্ষকে একটা সমঝোতায় আসতে হবে।
