দাপুটে শুরুর পর কিছুটা ছন্দ পতন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে হারটা অবশ্য কোনো ক্ষতির কারণ হয়নি। আগেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ায় ম্যাচটিকে আসলে তেমন গুরুত্ব দেয়নি মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। তবে এবার আর গা এলানোর সুযোগ নেই। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে নামতে হবে। আগামীকাল সকাল ৬টায় সান ফ্রান্সিসকোর বে এরেনায় স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ লড়াকু বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। কাগজে কলমে পিছিয়ে থাকলেও জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন কোচ সের্গেই বারবারেস।
নিজেদের গ্রুপ থেকে সেরা দল হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়া শেষ ম্যাচে জিতে তৃতীয় দল হিসেবে সুযোগ পায়। তাই এ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রই ফেভারিট। আর দলীয় কোচ টিম রিম বলেন, ‘২০২২ সালের তুলনায় এবার আমরা নিজেদের ওপর অনেক বেশি প্রত্যাশা চাপিয়ে দিয়েছি। তবে এই চাপটা বাইরে থেকে নয়, পুরোপুরি নিজেদের ভেতর থেকেই এসেছে।’ ঘরের মাঠে স্বপ্নযাত্রায় এগিয়ে যেতে ম্যাচটি যেকোনো মূল্যে জিততে চান টিম রিম। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা এমন একটি ম্যাচ, যেটা আমরা জিততে চাই।
জিততে হলে আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিতে হবে। গ্রুপ পর্বে যেমন খেলেছি, সেভাবেই খেলতে হবে। তারপর দেখা যাবে সেটা আমাদের কোথায় নিয়ে যায়। চাপের দিক থেকে অতিরিক্ত কিছু নেই। প্রতিটি ম্যাচের মতোই আমরা এটাকেও দেখছি।’ হেড টু হেড রেকর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য। তিন ম্যাচে দুই জয়। অন্যটি ড্র। সবশেষ ২০২১ সালে বসনিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। তবে বসনিয়াও হাল ছাড়ার পাত্র নয়। কানাডার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র এবং সুইজারল্যান্ডের কাছে ৪-১ গোলে হেরে গিয়েছিল তারা। কিন্তু বাঁচা-মরার শেষ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নকআউটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বসনিয়া।
কোচ সের্গেই বারবারেসের কৌশল কিছুটা রক্ষণাত্মক। তবে প্রতি আক্রমণে বেশ পটু তাদের আক্রমণভাগ। ৪০ বছর বয়সেও দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন অধিনায়ক এডিন জেকো। তার সঙ্গে এরমেদিন দেমিরোভিচ, কেরিম আলাইবেগোভিচ ও এসমির বাইরাকতারেভিচ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হতে পারে। গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজও দারুণ ছন্দে আছেন। বারবারেসের কোনো চাপ নেই। তিনি বলেন, ‘এসেছিলাম আন্ডারডগ হিসেবে। কিন্তু বড় কিছু করার চেষ্টা করেছি। আমরা কোনো চাপ ছাড়াই খেলবো। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক তাকে সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করবো। তবে মাঠে নামবো জয়ের লক্ষ্যেই।’ বসনিয়ার কৌশল নিয়ে রিম বলেন, ‘প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যেমন কিছু অপ্রত্যাশিত বিষয় দেখেছিলাম, তেমনি বসনিয়াও শুধু রক্ষণাত্মক খেলবে- এমনটা ধরে নিচ্ছি না। আমাদের অপ্রত্যাশিত সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মাঠে তারা যে সমস্যাগুলো তৈরি করবে, সেগুলোর সমাধান খেলোয়াড়দেরই বের করতে হবে।’
