হারারে টেস্টে বাংলাদেশের লজ্জার হার

হারারে টেস্টে বাংলাদেশের লজ্জার হার

ফন্ট সাইজ:

হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ও ৮৫ রানে হারের চরম লজ্জা পেলো বাংলাদেশ। মাত্র আড়াই দিনেই শেষ হওয়া ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এটিই সফরকারীদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয়। টানা ৪টি টেস্টে জয়ের পর এমন হঠাৎ হারে হতাশ টাইগার ভক্তরাও। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তার মতে, ১ম দিন মধ্যাহ্নভোজ ও চা-পানের বিরতির মধ্যবর্তী সময়েই ম্যাচটি হাতছাড়া হয়ে যায়। কন্ডিশনের অজুহাত না দিয়ে সিমন্স বলেন, ‘প্রথম ২ ঘণ্টা আমরা ভালোভাবেই ম্যাচে ছিলাম, কিন্তু লাঞ্চ থেকে চায়ের বিরতির মাঝের সময়টাতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণেই আমাদের ম্যাচ হারতে হয়েছে। ওই সময় ক্রিজে আমাদের ব্যাটারদের কাছ থেকে আরেকটু নিবেদন প্রত্যাশা করেছিলাম, যা দেখতে না পেয়ে আমি দারুণ হতাশ। আমরা ব্যাটিংয়ে মোটেও ভালো করতে পারিনি।’

মূলত ১ম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে গিয়েই নিজেদের সমাধি রচনা করে সফরকারীরা। অন্যদিকে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই জয়টি এলো দীর্ঘ ২৫ বছর পর। এর আগে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের মাটিতে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের ২য় ম্যাচে। জিম্বাবুয়ের নতুন অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার লাল বলের ক্রিকেটে পথচলা শুরু হলো এক অবিস্মরণীয় জয়ে। ১ম ইনিংসে ১৪০ রানে অলআউট হওয়ায় বাংলাদেশ দল ২৭০ রানে পিছিয়ে পড়েছিল। গতকাল ২য় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ব্যাটারদের থেকে যে লড়াই প্রত্যাশিত ছিল, তা প্রতিরোধের ন্যূনতম আভাস না দিয়েই বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়ে। দলের কোনো ব্যাটারই ব্যক্তিগত ৩৫ রানও স্পর্শ করতে পারেননি। সফরকারী দলের ব্যাটারদের অতিমাত্রা আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে বিলিয়ে আসা সস্তা উইকেটগুলোই হারের মূল কারণ। নবীন অধিনায়ক এনগারাভার আগ্রাসী বোলিং ও ফিল্ডিং সাজানোর সামনে লজ্জাজনক আত্মসমর্পণ করেছে সফরকারীদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ।

গতকাল ব্যাটিংয়ের শুরুতেই বাউন্স সামলাতে না পেরে মাত্র ২২ রানে বিদায় নেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ১ম ইনিংসে ফিফটি করা মুমিনুল হক এবার সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ১৩ রানে। দলের বিপদে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম। ৩য় উইকেটে এই যুগল ৬৪ রানের একটি প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষরক্ষা হয়নি। নিউম্যান নিয়ামুরির ফুল টস বলে শান্ত বোল্ড হন ব্যক্তিগত ৩০ রানে। অন্যদিকে ব্লেসিং মুজারাবানির লেগ স্টাম্পের বাইরের অতি সাধারণ এক বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৩৪ রান করা রহীম। অভিষিক্ত তাওহিদ হৃদয় ২ ইনিংসেই যথাক্রমে ৩ ও ৯ রান করে ব্যর্থ হন।

তবে এই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেও সফরকারী দলের ইতিবাচক কিছু দিক দেখছেন কোচ সিমন্স। বিশেষ করে ২য় দিনের সকালে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে দলের বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানো এবং শক্তিশালী জিম্বাবুয়েকে ৪১০ রানে অলআউট করার সাহসী লড়াইকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে তাইজুল প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট দখল জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের লাগাম টানেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন