জার্মানির অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্তে। শেয়ারবাজার নিয়ে কাজ করা এ অর্থনীতিবিদ ফুটবলের খোঁজখবর রাখেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেন ভবিষ্যদ্বাণী। শেষ তিন বিশ্বকাপে তার পূর্বাভাস সঠিক হয়েছিল। নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপ জিতবে- এবার এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। কিন্তু মরক্কোর কাছে হেরে রাউন্ড অব থার্টিতে শেষ ডাচ্দের যাত্রা। ব্রাজিলকে নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছিলেন ক্লেমেন্তে। বলেছিলেন সেলেসাওদের হারাবে জাপান। দুই পূর্বাভাসই ভুল হলো। এ সুযোগে তাকে খোঁচা মেরেছেন ব্রাজিলের পোস্টারবয় নেইমার জুনিয়র।
এক্স হ্যান্ডলে ২৪ বছর বয়সী ফুটবলার লেখেন, ‘মিস্টার জোয়াকিম ক্লেমেন্তে... পরের বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করবেন।’ তার এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
ক্লেমেন্তে একজন গণিতবিদ ও অর্থনীতিবিদ। টানা তিন বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হবে কে? এর সফল ভবিষ্যবাণী দেন। ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার জয়ের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে এক সাক্ষাৎকারে ক্লেমেন্তে বলেন, ‘আমার মডেল বলছে, ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে পারে জাপান এবং সেই ম্যাচে জাপানই জিতবে। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, বর্তমানে সেলেসাওরা সেরা ছন্দে নেই। অন্য দিকে, জাপানের বর্তমান দলটি খুবই শক্তিশালী।’
তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হয়। ৯০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের ফল ছিল ১-১। তবে ইনজুরি টাইমের শেষ দিকে আর্সেনাল তারকা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি জয়সূচক গোল করেন। এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে শেষ ১৬-এ জায়গা করে নেয় ব্রাজিল। এরপর নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পূবার্ভাস ভুল হওয়ায় ফের খোঁচা দেন নেইমার। তিনি লিখেন, ‘আবারো ভুল’।
জোয়াকিম ক্লেমেন্তে গাণিতিক মডেল তৈরি করে পূর্বাভাস দেন। মূলত চারটি বিষয় সামনে রেখে এই মডেল করা। প্রথম প্যারামিটার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)। বিশ্বের সর্বত্রই ফুটবল খেলা হয়। তবে বিশ্বকাপের মতো আসরে সফল হতে হলে অবশ্যই ফুটবল অবকাঠামোর প্রয়োজন। আর সে জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। ভালো মাঠ লাগবে, যেখানে তরুণ খেলোয়াড়েরা নিয়মিত খেলতে পারে। দ্বিতীয়ত, জনসংখ্যা। অধিক জনসংখ্যা একটি বড় পূর্বশর্ত। যে দেশের জনসংখ্যা বেশি, তাদের তরুণ প্রতিভার সংখ্যা বেশি। তবে ব্যতিক্রমও আছে। তৃতীয়ত, তাপমাত্রা। বেশি ঠান্ডা বা বেশি গরমের দেশগুলো ফুটবলে খুব বেশি সফল নয়। ফুটবল খেলার জন্য যে আদর্শ গড় তাপমাত্রা, তা হলো ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মূলত ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল এবং দক্ষিণ আমেরিকার তাপমাত্রা ফুটবলের জন্য ভালো। চতুর্থত, সমর্থকদের উপস্থিতি। স্টেডিয়ামে যে দলের সমর্থক বেশি থাকে, তারা বিশেষ সুবিধা পায়। খেলার জয়-পরাজয়েও এর প্রভাব পড়ে।
