শ্রীপুর উপজেলার হাট দারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অভিভাবক ও স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে সাচিলাপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমাবেশ করে তারা সহকারী শিক্ষক মহসিন আলী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ তোলেন এবং তার অপসারণ দাবি করেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে ‘চক্রান্ত’ বলে দাবি করে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
রফিকুল ইসলাম প্রদীপ নামে একজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষককে নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচার হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে তারা দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী ইমাম হোসেন জানান, ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে ওই ছাত্রীর মা বৃহস্পতিবার সকালে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক মহসিন আলী বিশ্বাস বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তার দাবি, প্রধান শিক্ষক একটি পক্ষকে সমর্থন করায় এ ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গণি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কমিটি দশ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
