বিদেশিদের চেয়ে দেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে

কর্মশালায় বিডা চেয়ারম্যান

বিদেশিদের চেয়ে দেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

চলমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিদেশি বিনিয়োগের চেয়ে দেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী)। তিনি বলেন, কোভিড পরিস্থিতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সারাবিশ্বের বিনিয়োগ পরিস্থিতি বাধাগ্রস্ত করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সময় প্রয়োজন। চলমান এই বাস্তবতায় দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় এক প্রশ্নের উত্তরে সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রবাহ ও বিনিয়োগের সুবিধা’ শীর্ষক এ কর্মশালার প্রথম পর্বে বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক (পরিসংখ্যান বিভাগ) নূরজাহান আক্তার। দ্বিতীয় পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি। বিডার নির্বাহী সচিব মো. হুমায়ূন কবির এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন বিডার মহাপরিচালক (অপারেশন-২) মো. মুজিব উল-ফেরদৌস।

আশিক চৌধুরী বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বন্ধ সরকারি কারখানাগুলো সচলের উদ্যোগ। বিশেষ করে বড় জায়গা রয়েছে এমন স্থানকে একক কোন প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঢাকার পাশেই করিম জুট মিল ও লতিফ-বাওয়ানি জুট মিলের অনেক জায়গা রয়েছে। আমরা পরিকল্পনা করছি যাতে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান এখানে কারখানা গড়তে পারে।
চীনা বিনিয়োগ প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরের বিনিয়োগ চিত্রে দেখা গেছে এখানে চীনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এসেছে। তারা চট্টগ্রামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে। এছাড়া মোংলাতেও তারা আগ্রহ দেখিয়েছে। সেখানেও তারা অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে আগ্রহী। আসন্ন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল যাচ্ছেন। চীনের গুয়াংজুতে বিডার অফিস করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বেশি কিছু ঘোষণা আসবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগে সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্বালানি এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীদের জন্যই এটি সমস্যা। বিশেষ করে গ্যাস সংকটের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভুগছে দেশের শিল্প-কারখানাগুলো। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সবাই জ্বালানি সংকট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সপ্তাহে যত কর্মঘণ্টা কাজ করি তার অর্ধেক সময় কাটাতে হয় জ্বলানি মন্ত্রণালয়ে। যতই বিনিয়োগ সম্মেলন করি না কেনো, জ্বালানি সংকট সমাধান না হলে কিছুই হবে না। তিনি বলেন, রাতারাতি এ সংকট কাটানো সম্ভব না। কারণ জ্বালানির একটি স্থাপনা করতে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় প্রয়োজন। সরকার এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

বাজেটে ব্যবসা সহজীকরণে একগুচ্ছ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রস্তুতী জানতে চাইলে আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগ সুবিধা দিতে হলে একছাতার নিচে সব সুবিধা নিয়ে আসা হবে। এখন অনলাইন সুবিধা থাকলেও এর সম্পূর্ণ সুবিধা উদ্যোক্তারা নিতে পারছে না। কারণ বিভিন্ন পারমিশন ও ছাড়পত্রগুলো সংশ্লিষ্টমন্ত্রণালয় দিয়ে থাকে। ব্যবসা সহজীকরণে বাজেটের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে আগামী তিন মাসের মধ্যে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। ব্যাংকিং খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের এই দুর্দশা শুরু হয়েছিল ২০১৯ থেকে ২০২৩ সময়ে। এখন একে একে বের হচ্ছে এত ভয়ংকর অবস্থা । তথ্য লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আমরা এতদিন এই দুর্দশার অবস্থা স্বীকার করিনি। আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থাগুলো এখন রেটিং কমিয়ে দিচ্ছে। প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পেলে এটা আরো আগেই হতো। এখন সমস্যাগুলো চিহ্নিত হচ্ছে, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে।

গত বছর বিডার ‘বিনিয়োগ সামিটের’ পর দেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ কেমন বেড়েছে-এমন প্রশ্নের উত্তরে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, আমি বলতে পারি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু আমাদের পাইপলাইনে যে পরিমাণ বিনিয়োগপ্রস্তাব রয়েছে সেগুলোকে বাস্তবে রুপান্তরে সময় লাগছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওই সময় সবাই নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আর এ কারণে বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণে ছিলেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটা বড় সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এরপর নির্বাচন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) চালু হলেও সেটি কার্যকর না হওয়ার কারণ জানিয়ে বলেন, অনলাইনের পাশাপাশি ম্যানুয়াল সেবা যদি কার্যকর থাকে তাহলে তার সুফল পাওয়া যায় না। ওয়ান স্টপের পরিবর্তে বাংলাবিজ নামে ওয়ান স্টপ গেটওয়ে চালু করা হচ্ছে, এতে ব্যবসা সম্পর্কিত সবগুলো সংস্থার সঙ্গে এপিআই করা হবে। বিজনেস প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি ইউনিক আইডি চালুর কথা জানিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, এখন একজন ব্যক্তির সব ধরনের তথ্য যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের সঙ্গে যুক্ত তেমনি বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার চালু হলে একটি কোম্পানির একই ধরনের তথ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বারবার দেয়ার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর একীভূতকরণের মাধ্যমে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ গঠিত হলে বিনিয়োগকারীদের জটিলতা অনেকাংশে কেমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন