স্বামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল, তিন আসামি খালাস

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ সুমি হত্যা

স্বামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল, তিন আসামি খালাস

ফন্ট সাইজ:

যৌতুকের টাকা না পেয়ে ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জে গৃহবধূ সুমি রানী রায়কে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্বামী সুবির কুমার রায়ের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর তিন আসামি ডা. সুশীল কুমার রায়, সুনীল কুমার রায় ও মনোরঞ্জন কুমার রায়কে খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশ্লিষ্ট ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গঠিত বিশেষ বেঞ্চের এটি দ্বিতীয় রায়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কের বাসিন্দা মৃত সতীশ চন্দ্র রায়ের ছেলে সুবির কুমার রায়ের সঙ্গে টাঙ্গাইল শহরের শাহাপাড়ার বাসিন্দা গোপীনাথ বিশ্বাসের মেয়ে সুমি রানী রায়ের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এর মধ্যে আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি অর্থের জন্য সুমির ওপর নির্যাতন চালানো হতো। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০০ সালের ২৯ জুন গোপীনাথ বিশ্বাস বাকি যৌতুকের অর্থের অংশ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা সিরাজগঞ্জে এসে সুবিরের ভাই ডা. সুশীল কুমার রায়ের কাছে প্রদান করেন। এরপরও বাকি টাকার জন্য সুমিকে চাপ ও নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়।

২০০১ সালের ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যৌতুকের অবশিষ্ট টাকা আনার জন্য সুমির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও গলা টিপে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর মনোরঞ্জন কুমার রায় সিরাজগঞ্জ সদর থানায় সুমি আত্মহত্যা করেছেন মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়ার পর তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম ১৫ জানুয়ারি ২০০১ সালে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে নিহতের বাবা গোপীনাথ বিশ্বাসও সুবির ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত ও বিচারকালে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি সুবির কুমার রায়, ডা. সুশীল কুমার রায়, সুনীল কুমার রায় ও মনোরঞ্জন কুমার রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে হাইকোর্ট স্বামী সুবির কুমার রায়ের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। একই সঙ্গে অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি শেখ আব্দুল হামিদ লাভলু ও বিশেষ এপিপি আনোয়ার পারভেজ লিমন। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এস এম জাহাঙ্গীর আলম।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন