তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়সমূহ বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর-পর্বে তিনি এই তথ্য জানান। এদিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। নির্ধারিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ দেয়াসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহ কমে যায়। ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে উজানে অতি বৃষ্টির কারণে হঠাৎ বন্যা ও নদীভাঙন সংঘটিত হয়।
তিনি বলেন, তিস্তা এলাকার ৫টি জেলায় (রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট) নদীভাঙন রোধে বিগত ও চলতি অর্থবছরে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে, যা এ মাসেই শেষ করার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই কাজের মধ্যে রংপুর-৪ সংসদীয় এলাকার তিস্তা নদীর অংশে ভাঙন রোধে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪.৬ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান আছে, যার বাস্তবায়নও চলতি মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীভাঙন অনেকাংশেই প্রশমিত হবে।

তারেক রহমান বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ (নদী শাসন), ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন/স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কাজ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়সমূহ বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান: ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ নিয়ে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান কৃষি-বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হলোÑএকটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি। সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন প্রশ্নোত্তর-পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের জীবন- জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা পানিসম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তন্মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন; তিস্তা মহাপরিকল্পনা; নদীভাঙন রোধ; বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ; এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসকরণ অন্যতম।

৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে: সংসদে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়াসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন সরকারপ্রধান। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ্’র লিখিত জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি মিডিয়াম অ্যান্ড লং-টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি (এমএলটিআরএস) গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর-জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভাগের অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইন উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় ও কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব ব্যয় হ্রাস করা হচ্ছে। কর আইন সরলীকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ ও কর ঝুঁকি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্পখাতভিত্তিক গড় সূচক ব্যবহারপূর্বক ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। করদাতার তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

হজের খরচ কমিয়ে সাধারণের নাগালে আনার পরিকল্পনা সরকারের: হজের খরচ কমিয়ে তা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের নাগালে আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ আরও সাশ্রয়ী বা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের এক টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজ একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। এর মোট ব্যয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ খরচ সৌদি আরব সরকার নির্ধারণ করে। এর মধ্যে মিনা ও আরাফাতের তাঁবু ভাড়া, পরিবহন, মোয়াল্লেম সার্ভিস চার্জ, মক্কা-মদিনায় হোটেল ভাড়া এবং ভিসা-ইন্স্যুরেন্স ফি অন্তর্ভুক্ত। বাকি মাত্র এক-চতুর্থাংশ ব্যয় বাংলাদেশ অংশে হয়, যার সিংহভাগই বিমান ভাড়া।

সরকারপ্রধান জানান, ২০২৫ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২৬ সালে হজের খরচ ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ নির্ধারিত হয় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা (কোরবানি সহ)।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন