পর্তুগালকে রুখে দিয়ে চমক ডিআর কঙ্গোর

পর্তুগালকে রুখে দিয়ে চমক ডিআর কঙ্গোর

ফন্ট সাইজ:

মেসি, এমবাপ্পে, হালান্দরা স্বরূপে। রোনালদো কেমন করবেন? অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব। তবে ঝলক দেখাতে পারলেন না রোনালদো। জয় পেলো না তার দল পর্তুগালও। শিরোপাপ্রত্যাশী পর্তুগালকে রুখে দিয়ে চমক দেখালো ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে আসা ডিআর কঙ্গো। ফিফা বিশ্বকাপে গতকাল পর্তুগাল-ডিআর কঙ্গোর ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলের সমতায়। পর্তুগালের হয়ে বড় কোনো টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচে গোল করতে পারলেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই তার সবচেয়ে দীর্ঘ গোল খরা।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪৬ নম্বর দল ডিআর কঙ্গো ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়েন দিসাবরির অধীনে আফ্রিকান বাছাইপর্বে সংগঠিত ফুটবল খেলেছে। শক্ত রক্ষণ আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার কৌশল নিয়ে তারা বড় মঞ্চেও সফল। হিউস্টন স্টেডিয়ামে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ষষ্ঠ মিনিটেই পর্তুগালকে গোল এনে দেন জোয়াও নেভেস। প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) মিডফিল্ডারের পর্তুগালের জার্সিতে এটি চতুর্থ গোল। নেতোর পাস থেকে গোলটি করেন নেভেস। তবে চমক দেখায় ডি আর কঙ্গোও। র‌্যাঙ্কিংয়ের পঞ্চম সেরা দলের বিপক্ষে প্রথমার্ধের যোগ করা পঞ্চম মিনিটে গোল পরিশোধ করে কঙ্গোলিজরা। ডান প্রান্ত দিয়ে আর্থার মাসুয়াকুর ক্রসে দারুণ এক হেডে গোল করেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড ইওয়ান উইসা।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ডিআর কঙ্গোর এটি প্রথম গোল। পশ্চিম আফ্রিকার দলটি সমতায় ফেরার পরই প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি বাজান রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণ ঠিক রেখে আচমকা প্রতিআক্রমণে যাওয়া কঙ্গো বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে। সুযোগ আসে পর্তুগালেরও। ৫৪তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ডি বক্সের ভেতরে দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিকে বল জালে পাঠান জোয়াও ক্যানসালো। কিন্তু অফসাইডে গোল ক্যানসেল করেন রেফারি। ৭৭তম মিনিটে এক সুন্দর আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি করলেও ক্রসবারের ওপর বল মেরে তা নষ্ট করেন এক কঙ্গোলিজ তারকা।

হিউস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে রোনালদো ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। শুরুর ৪৫ মিনিটের খেলায় মাত্রই ১৬ বার বল স্পর্শ করেন এই পর্তুগিজ তালিসমান। এসময় গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা শুধু রোনালদোর চেয়ে কম স্পর্শ করেন বল। পুরো প্রথমার্ধের খেলায় প্রতিপক্ষের ডি বক্সে রোনালদো বল স্পর্শ করেন একবার এবং ফাইনাল থার্ড অঞ্চলে রোনালদোর পা থেকে আসে কেবল একটি পাস। ৬৯তম মিনিটে দারুণ সুযোগ পান রোনালদো। কিন্তু ছোট ডি বক্সের কাছে বল পেয়ে বাইরে মারেন ‘সিআর সেভেন’ খ্যাত তারকা।

৭৪তম মিনিটে আরও একবার সুযোগ আসে রোনালদোর সামনে। কাছের পোস্টের বাইরে মেরে আবারও সুযোগ নষ্ট করেন তিনি।

পর্তুগালের স্প্যানিয়ার্ড কোচ রবার্তো মার্টিনেজকেও ভাবতে হবে কৌশল নিয়ে। পুরো ম্যাচে কঙ্গোর বল পজেশন ছিল মাত্রই ২৫%। ম্যাচে কঙ্গোর পাসের সংখ্যা ছিল মাত্র ২২২টি। অন্যদিকে ৭৫% বল পায়ে রেখে ৭৬৯টি পাস আদান-প্রদান করে পর্তুগিজরা। কিন্তু কাজের কাজটি হয়নি। দু’দলই গোলপোস্টে নেয় সমান ৯টি করে শট। সমান তিনটি করে শট ছিল অনটার্গেটে। ডিসিপ্লিনেও এগিয়ে ছিল ডিআর কঙ্গো। ম্যাচে দু’দলই করে ৯টি করে ফাউল। তবে কঙ্গোর এক হলুদ কার্ডের বিপরীতে পর্তুগিজরা দেখেন তিনটি হলুদ কার্ড।

হিউস্টনে এই ম্যাচ খেলতে নেমেই এক রেকর্ড গড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো দলের একাদশের হয়ে মাঠে নামা সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় এখন রোনালদো। এদিন রোনালদোর বয়স ছিল ৪১ বছর ১৩২ দিন। আগের রেকর্ডটি ছিল কানাডার আতিবা হাচিনসনের। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ৩৯ বছর ২৯২ দিন বয়সে মাঠে নামেন সাবেক এ মিডফিল্ডার।

টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির এক রেকর্ডেও ভাগ বসালেন পর্তুগিজ মহাতারকা। গতকাল সকালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নেমে এ কীর্তি গড়েন মেসি । মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়ারও এটি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। তবে গোলরক্ষক ওচোয়া দুটি বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ পাননি, খেলেননি এবারের প্রথম ম্যাচও।

জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি রোনারদোর। পর্তুগালের জার্সি গায়ে ২২৮ ম্যাচে ১৪৩ গোল রয়েছে রোনালদোর ঝুলিতে, ৪৬টি অ্যাসিস্ট। ২০১৪ সালে এই কঙ্গোর বিপক্ষে জোড়া গোল করেই পর্তুগালের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হন রোনালদো। তবে বিশ্বকাপে তার পরিসংখ্যান আরও ভালো হতে পারতো। ২০০৬ থেকে টানা ছয় বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে রোনালদো করেছেন সাকুল্যে ৮ গোল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন