মাতারবাড়ি-চট্টগ্রামে হচ্ছে দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

ফন্ট সাইজ:

দেশে প্রথমবারের মতো দুটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দরের কাছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় এ দুটি অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, দেশের অর্থনীতিতে গতি আনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যেই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দুটি স্থানে মোট প্রায় ৬০০ একর জমিতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মাতারবাড়ি এলাকায় প্রায় ৩০০ একর জমিতে একটি অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। অপরটি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি স্থাপন করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমানে বিষয়টি ধারণাগত (কনসেপ্ট) পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নীতিগতভাবে ইতিবাচক মত দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা, বিনিয়োগ কাঠামো ও পরিচালন পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে আসা জাহাজগুলো এসব অঞ্চলে পণ্য খালাস, বিক্রি বা পুনঃরপ্তানির সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও এখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে পণ্য সরবরাহ করতে পারবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, এ ধরনের অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, ভলিউম অব ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি বাড়বে, জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বন্দরের ব্যবহার বাড়বে, জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং পণ্য ও সেবার দ্রুত স্থানান্তর সম্ভব হবে।

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল: বৈঠকে আনোয়ারা উপজেলায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের জন্য বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক কোম্পানি গঠন এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন ও ভূমি ইজারা চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিজেদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের কাছাকাছি থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সে কারণে একটি সমন্বিত চীনা শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা আরও সহজ হবে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন সংক্রান্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সুপারিশের একটি অংশ নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন