রাজধানীর আদাবরের শেখের টেক-৭ এলাকায় বিকাশের দোকানে ছিনতাই এবং পুলিশকে ধারালো চাপাতির আঘাতের ঘটনায় ছিনতাইকারী চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী এক্সেল বাবু এবং কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাইদসহ ৬ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে এক্সেল বাবু এবং ছিনতাইকারী কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাইদ, রাশেদ খন্দকার, লিটন, তৌসিফ ও তরিকুল ইসলাম। কব্জিকাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদের গুরু এক্সেল বাবু। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। বুধবার কাওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। বলেন, শেখের টেক-৭ এলাকায় মঙ্গলবার সকালের দিকে একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে বিকাশের এজেন্টকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তার কাছে থাকা তিন লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আদাবর থানা পুলিশ ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালাতে গেলে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। ছিনতাইকারীদের চাপাতির আঘাতে আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে ছিনকাইকারী চক্রের মূলহোতাসহ অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারে র্যাব-২ এর গোয়েন্দা টিম ঘটনাস্থল এবং আশপাশ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এ সময় কমান্ড আবু সাইদ, রাশেদ খন্দকার, লিটন, তৌসিফ ও তরিকুল ইসলামসহ ছয়জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব কর্মকর্তা নয়মুল হাসান বলেন, আসামিদের পিসিপিআর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সে একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, কব্জিকাটা গ্রুপের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী এক্সেল বাবুর সম্পৃক্ততা সে নিজেই স্বীকার করেছে। এক্সেল বাবু হচ্ছে কব্জিকাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও আবু সাইদের গুরু। এক্সেল বাবুর মতো পৃষ্ঠপোষকদের আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত আটক করতে পারবো না, ততক্ষণ এই গ্যাংগুলো অ্যাকটিভ হতে থাকবে। এ কারণে আমরা একটু অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং করতে চাই। আবু সাইদের বিষয়ে তিনি বলেন, আনোয়ার গ্রেপ্তারের পর পুরো এই গ্রুপের কিং হিসেবে সে কাজ করছে। এই ধরনের ছিনতাইকারী ও অপরাধ কন্ট্রোল করা এবং দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার বিষয়ে র্যাব কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেÑ জানতে চাইলে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে একটা উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। রামিসা হত্যা মামলায় খুব দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট আদালত রামিসা হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করেছে। এ ধরনের কোনো প্রসেসে যদি ছিনতাইকারী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যদি এটা করা যেত, তাহলে আমার মনে হয় জনগণ আরও বেশি নিরাপদবোধ করতো।
