দেখে মনে হচ্ছিল যেন সদ্য প্রেমে পড়া দুই কিশোর-কিশোরী। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় এক রোমান্টিক পিকনিক ডেটে ঘাসের ওপর বসে চুম্বন আর খুনসুটিতে মেতে উঠতে দেখা গেল পপতারকা কেটি পেরি ও কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে। তাদের এমন সব ছবিতে বৃটিশ ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলো ঠাসা। এসব ছবি দেখে যেকেউ তাদেরকে ‘লাভবার্ড’ বলে অভিহিত করতে পারেন। রাজনীতি থেকে সদ্য বেরিয়ে এসে জীবনকে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে উপভোগ করছেন ট্রুডো।
প্রেমিকা কেটি পেরির কারণে নিজ দেশের বিশ্বকাপ খেলার দিনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দেখতে গিয়েছেন সেখানে। কারণ, সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফরম করেছেন তার প্রেয়সী কেটি পেরি। নতুন করে শনিবার তোলা ছবিগুলোতে দেখা যায়, ৪১ বছর বয়সী ‘ডার্ক হর্স’ খ্যাত গায়িকা কেটি পেরি কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গভীর ভালোবাসার মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছেন। কখনও নাক ঘষে আদর করছেন, কখনও আবার একে অপরকে আলতো চুম্বনে ভরিয়ে দিচ্ছেন। দিনের শুরুতে কেটি পেরির ভিনটেজ মোক গাড়িতে করে তারা দুপুরের খাবার সংগ্রহ করেন। এরপর একটি মনোরম পার্কে গিয়ে লাল-সাদা চেক নকশার কম্বল বিছিয়ে বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময় কাটান।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক সিটিতে কেটি পেরির কনসার্টভিত্তিক চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে একসঙ্গে লাল গালিচায় হাঁটার মাধ্যমে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করেন তারা। এবারও প্রকাশ্যেই ভালোবাসার প্রকাশে কোনো রাখঢাক করেননি এই যুগল। তাদের সঙ্গে ছিলেন কেটি পেরির মা মেরি, পেরির পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ডেইজি ডাভ এবং আরও এক শিশু, যাকে ট্রুডোর বিচ্ছিন্ন স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ার ট্রুডোর সঙ্গে তার ১২ বছর বয়সী ছোট ছেলে হাদ্রিয়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও কেটি ও ট্রুডো নিজেদের জন্য কিছু নিরিবিলি সময় বের করে নেন। একপর্যায়ে ট্রুডো ঘাসের ওপর শুয়ে হাসছিলেন, আর কেটি ঝুঁকে এসে তাকে চুম্বন করেন।
পিকনিকে কেটি পেরিকে দেখা যায় সাদা টপ, ডোরাকাটা লিনেন ট্রাউজার ও ফ্লিপ-ফ্লপ পরিহিত অবস্থায়। পরে তিনি জুতা খুলে খালি পায়ে ঘাসে হাঁটেন। শুরুতে মাথায় টুপি থাকলেও পরে সেটি খুলে ফেলেন এবং খোঁপা করে বাঁধা কালো চুল দেখা যায়। অন্যদিকে, ট্রুডোর পরনে ছিল অলিভ-সবুজ টি-শার্ট ও নেভি রঙের কার্গো শর্টস। তিনিও খালি পায়ে ঘাসে সময় কাটান। তবে পুরো সময়টাই যে শুধুই রোমান্সে কেটেছে, তা নয়। পেরি ও ট্রুডো তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পার্কের খেলার মাঠেও সময় কাটান।
‘সে আমার জীবনের ভালোবাসা’
এ দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার কয়েক দিন আগেই জাস্টিন ট্রুডোকে তার ‘জীবনের ভালোবাসা’ বলে উল্লেখ করেন কেটি পেরি। এর আগে তার বিয়ে হয়েছিল কৌতুক অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে। পরে অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাদের বাগদানও হয়। তবে গত বছরের জুনে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে। ৮ই জুন নিউইয়র্ক সিটিতে ‘কেটি পেরি: দ্য লাইফটাইমস ট্যুর’ কনসার্ট চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে ট্রুডোর সঙ্গে লাল গালিচায় হাঁটার পর সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন পেরি। পিপল ম্যাগাজিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি গভীরভাবে প্রেমে পড়েছি। সত্যি বলতে, ওই শোটি হয়েছিল আমার জীবনের ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের পর। তাই আমি ভীষণ স্থিরতা অনুভব করেছি। তিনি আরও বলেন, আমি অনেকটা রংধনুর ঘুড়ির মতো। অনেক উঁচুতে উড়তে ভালোবাসি, মহাবিশ্ব ছুঁতে চাই। কিন্তু মাঝেমধ্যে আমাকে মাটিতে টেনে রাখার জন্য একটা নোঙরের প্রয়োজন হয়। অবশেষে সেই নোঙর পাওয়ায় এখন নিজেকে পরিপূর্ণ মনে হচ্ছে।
কঠিন সময় পেরিয়ে নতুন জীবনের সন্ধান
কেটি পেরি বলেন, বর্তমান জীবন নিয়ে তিনি ভীষণ সুখী। তার ভাষায়, প্রতিটি দিনই এক অসাধারণ যাত্রা। প্রতিটি দিন নিজেকে বদলে নেয়ার, আরও ভালো মানুষ হওয়ার, সঠিক কাজ করার এবং পরিবার, সমাজ ও পৃথিবীর জন্য উদাহরণ হয়ে ওঠার সুযোগ। তিনি বলেন, আমার জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই এখন আমি অনেক বেশি স্থির ও মাটির কাছাকাছি একজন মানুষ। পেরি স্মরণ করেন, ২০২৫ সাল। ওই বছর অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে তার বাগদান ভেঙে যায়। এটা ছিল জীবনের অন্যতম কঠিন সময়। তিনি বলেন, আমি ভীষণ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি। এমন অনেক দিন ছিল, যেগুলো সত্যিই খুব কঠিন। কিন্তু আমি থামিনি। কারণ আমি আমার ভক্তদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমার মেয়ের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। নিজের কাছেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আর শেষ পর্যন্ত আমি তা অতিক্রম করেছি। প্রত্যেক মানুষকেই নিজের আগুনের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। আর আপনি যদি নরকের মধ্য দিয়ে হাঁটেন, তবে হাঁটতে থাকুন। কারণ নরকের ওপারেই অবশ্যই স্বর্গ অপেক্ষা করে।
চল্লিশের জীবনে নতুন আত্মবিশ্বাস
২০১৩ সাল থেকে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কেটি পেরি বলেন, চল্লিশের দশকের জীবনকে তিনি নতুনভাবে গ্রহণ করেছেন। তার ভাষায়, বিশের দশক আবেগের সময়। তিরিশের দশক সেই আবেগগুলোকে গুছিয়ে নেয়া। আর চল্লিশের দশক হলো সেই আবেগকে আর ভয় না পেয়ে তাকে শক্তিতে রূপান্তর করার সময়। তিনি বলেন, দুঃখ, শোক কিংবা কষ্ট- এসব কাউকে আলাদা করে দেখে না। প্রত্যেক মানুষই নিজ নিজ উপায়ে এসবের মুখোমুখি হয়। কেটি পেরি জানান, তিনি চান তার মেয়ে ডেইজি ডাভ যেন তার চেয়েও ভালো মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক ‘লাইফটাইমস’ সফরে মেয়েকে সঙ্গে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমি যখন আমার মেয়েকে কর্মক্ষেত্রে সঙ্গে নিতে পারি, সেটা সব সময়ই অসাধারণ অনুভূতি। মায়েরা যখন নিজেদের সবচেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ও আত্মবিশ্বাসী রূপে থাকতে পারেন, তখন সেটাই শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হয়ে ওঠে। আমি শুধু চাই, আমার সুন্দর মেয়ের সামনে একজন শক্তিশালী, স্থির, বুদ্ধিমান, রসিক এবং খানিকটা অদ্ভুত কিন্তু সত্যিকারের নারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে। তিনি আরও বলেন, মা-বাবা হিসেবে আমরা সন্তানদের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করি। আমাদের একমাত্র আশা থাকে, তারা যেন আমাদের চেয়েও ভালো মানুষ হয়ে ওঠে এবং নিজেদের সেরা সংস্করণটি খুঁজে পায়। সবশেষে মেয়ের আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করে পেরি বলেন, সে এক দুর্দান্ত শক্তি। সে আমাকে স্পষ্ট করে বলে দেয়, সে কী ভাবছে।
