পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা। বয়স তার এখন ৬৭ বছর। কিন্তু হাল আমলের যুবতী, তরুণী শিল্পীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তিনি জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। ধরে রেখেছেন নিজের যৌবন, লাবণ্যকে। বহু বছর ধরেই বয়সকে হার মানানো চেহারার জন্য পরিচিত ম্যাডোনা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ফিল্টার ও ফটোশপ ব্যবহারের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন। এবার সেই বিতর্কের মাঝেই ভক্তদের সামনে হাজির হলেন একেবারে স্বাভাবিক রূপে কোনো মেকাপ বা ফিল্টার ছাড়া। সম্প্রতি নতুন অ্যালবামের প্রচারণায় বৃটিশ স্ট্রিমার জিমস্কিনের চ্যানেলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন ৬৭ বছর বয়সী এই সংগীত তারকা। সেখানে সম্প্রচারিত ভিডিওতে ম্যাডোনাকে দেখা যায় কোনো দৃশ্যমান ফিল্টার বা অতিরিক্ত সম্পাদনা ছাড়াই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।
কিক প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত ওই ফুটেজে তার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ছিল কেবল একটি উজ্জ্বল রিং লাইটের আলো। স্বাভাবিকভাবেই ‘হাং আপ’ খ্যাত এই শিল্পীকে এখনও বয়সের তুলনায় অনেক কমবয়সী দেখাচ্ছিল। যদিও তার চেহারা ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত অতিমাত্রায় সম্পাদিত ছবিগুলোর মতো নিখুঁত ও মসৃণ ছিল না। ম্যাডোনার আসল রূপ দেখে অনেক ভক্তই বিস্মিত হন। তবে তাদের বড় একটি অংশ এই সাহসী উপস্থিতির প্রশংসা করেছেন। একজন ভক্ত লিখেছেন, ফিল্টার ছাড়া ম্যাডোনাকে দেখতে আমার ভালো লাগছে। হ্যাঁ, তাকে কিছুটা বয়সী লাগছে। কিন্তু তাকে দারুণ দেখাচ্ছে। যারা অন্য কথা বলছেন, তারা অনুগ্রহ করে অন্য ৬৭ বছর বয়সীদের সঙ্গে তুলনা করুন। আরেকজনের মন্তব্য, মানুষ তার চেহারা দেখে অবাক হচ্ছে কেন? তিনি তো প্রায় ৭০ বছর বয়সী একজন নারী। এই বয়সে তাকে অসাধারণ লাগছে। তৃতীয়জন লিখেছেন, আমি ভালোবাসছি যে তিনি এ ছবি ফিল্টার ছাড়া প্রকাশ করেছেন। এত ফিল্টার ছাড়াও তাকে একদম ঠিকঠাক লাগছে।
তবে সমালোচকদেরও অভাব ছিল না। একজন প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি স্বাভাবিকভাবে বয়সের ছাপ গ্রহণ করতে পারলেন না কেন? আরেকজন মন্তব্য করেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে ম্যাডোনা ধীরে ধীরে ফেই ডুনাওয়ের মতো হয়ে উঠছেন।
নতুন অ্যালবামের প্রচারণায় এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ম্যাডোনা। বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী মিউজিক ভিডিওগুলোর একটি নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি। ১০ মিনিটের ‘কনফেশনস টু’ ভিজ্যুয়ালের একটি দৃশ্যে তাকে নাইটক্লাবের বাথরুমে এক তরুণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও ইঙ্গিতপূর্ণ পরিবেশনায় অংশ নিতে দেখা যায়। পুরো দৃশ্যটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। এটি মূলত তার আসন্ন অ্যালবাম ‘কনফেশনস টু’-এর প্রচারণার জন্য নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। উচ্চ বাজেটের এই প্রযোজনায় আরও দেখা গেছে একাধিক তারকা অতিথিকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মস, বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, ওডেসা আ’জিয়ন এবং জুলিয়া গার্নার। উল্লেখ্য, আসন্ন ম্যাডোনা-ভিত্তিক জীবনীচিত্রে জুলিয়া গার্নার ম্যাডোনার চরিত্রে অভিনয় করবেন। ভিডিওটিতে ‘কনফেশনস টু’ অ্যালবামের প্রথম ছয়টি গানের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করা হয়েছে।
একজন ভক্ত লিখেছেন, দুই মিনিটের গান আর ১৫ সেকেন্ডের মোবাইল ভিডিওর যুগে ম্যাডোনা আমাদের ১০ মিনিটের এক সিনেমাটিক সংগীত অভিজ্ঞতা উপহার দিলেন, যেখানে শিল্প ও গল্প বলার অসাধারণ সমন্বয় রয়েছে। আরেকজনের ভাষায়, যখন মিউজিক ভিডিওর গুরুত্ব প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে, তখন ম্যাডোনা ছয়টি গানের জন্য পুরো একটি চলচ্চিত্র নিয়ে হাজির হয়েছেন। এটাই ছিল মিউজিক ভিডিও সংস্কৃতির আসল অর্থ। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি শেষ সত্যিকারের পপ সুপারস্টার।
ম্যাডোনার বহুল প্রতীক্ষিত অ্যালবাম ‘কনফেশনস টু’ আগামী ৩রা জুলাই প্রকাশ হবে। এটি তার ২০০৫ সালের জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘কনফেশনস অন আ ডান্স ফ্লোর’-এর ধারাবাহিকতা। এর আগে নিজের চেহারা নিয়ে সমালোচনার জবাবে ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি ‘বয়সবৈষম্য ও নারীবিদ্বেষ’-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তিনি লিখেছিলেন, আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি, যেখানে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের উদযাপন করতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং তারা যদি এখনও দৃঢ়চেতা, পরিশ্রমী ও দুঃসাহসী থাকেন, তাহলে যেন তাদের শাস্তি দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করা হয়। ম্যাডোনা স্পষ্ট করে বলেন, আমি আমার সৃজনশীল সিদ্ধান্ত, আমার চেহারা কিংবা পোশাকের জন্য ক্ষমা চাইব না, আর এখন থেকে তা শুরু করারও কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি আরও বলেন, খ্যাতির শুরু থেকেই তিনি নিজেকে নানা সময় হেয়প্রতিপন্ন হতে দেখেছেন। কিন্তু তিনি এটিকে একটি পরীক্ষার অংশ হিসেবে দেখেন।
তার ভাষায়, আমি বুঝি এটি একটি পরীক্ষা। আর আমি আনন্দের সঙ্গে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করছি, যাতে আমার পরবর্তী প্রজন্মের নারীরা ভবিষ্যতে আরও সহজ পথ পায়।
