স্টিভেন স্পিলবার্গের দাবি: এলিয়েনরা ইতিমধ্যেই পৃথিবীতে এসেছে

স্টিভেন স্পিলবার্গের দাবি: এলিয়েনরা ইতিমধ্যেই পৃথিবীতে এসেছে

ফন্ট সাইজ:

বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ বহুদিন ধরেই পর্দায় এলিয়েনদের সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্র তৈরি করেছেন। তবে এখন ৭৯ বছর বয়সী এই পরিচালক দাবি করছেন, তিনি বাস্তব জীবনেও ভিনগ্রহের প্রাণী সম্পর্কে কিছুটা জানেন। নতুন একটি সাই-ফাই ব্লকবাস্টার ‘ডিসক্লোজার ডে’ প্রচারের সময় দেয়া সাক্ষাৎকারে স্পিলবার্গ বলেন, তিনি নিশ্চিত যে এলিয়েনরা ইতিমধ্যেই আমাদের পৃথিবীতে এসেছে। সিবিএস নিউজ’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি, তারা এখানে এসেছে এবং এখনো এখানে আছে। কে জানে, হয়তো তারা সবসময়ই এখানে ছিল।

‘ক্লোজ এনকাউন্টার্স অব দ্য থার্ড কাইন্ড’-এর এই পরিচালক আরও বলেন, তার এই বিশ্বাস এসেছে বিভিন্ন পরোক্ষ প্রমাণ থেকে যা তিনি সারাজীবন সংগ্রহ করেছেন। তাহলো বিভিন্ন মানুষের কথা, দেখা ডকুমেন্টারি এবং কংগ্রেসে শোনা সাক্ষ্য থেকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।

এখন কিছু বিজ্ঞানী বলছেন, স্পিলবার্গের কথায় কিছুটা সত্যতা থাকার সম্ভাবনাও থাকতে পারে। কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ড. জ্যাকো ভ্যান লুন বলেন, এটি একটি সম্ভাবনা। তিনি আরও বলেন, যদি তারা এক বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে এসে থাকে, তবে তারা তখন সমুদ্র ও জীবাণুসমৃদ্ধ পৃথিবী এবং উদ্ভিদহীন স্থলভাগ দেখত। তার মতে, তারা পৃথিবীতে কোনো নিদর্শন না রেখে থাকতে পারে। তবে একটি সম্ভাবনা হলো- তারা চাঁদ বা সৌরজগতের অন্য কোথাও নজরদারি বা পর্যবেক্ষণের জন্য কিছু রেখে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীদের বড় অংশের মতে, মহাবিশ্বে প্রাণ থাকা সম্ভব হলেও ভিনগ্রহের উন্নত সভ্যতার পৃথিবীতে আসার সবচেয়ে বড় বাধা হলো নক্ষত্রগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস্য দূরত্ব। কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. থমাস হাওয়ার্থ বলেন, নিকটতম নক্ষত্র প্রোক্সিমা সেন্টুরাইতে পৌঁছাতে সবচেয়ে দ্রুত মানবনির্মিত যান ‘পার্কার সোলার প্রোব’-এরও ৬,৫০০ বছর লাগবে। তিনি বলেন, দূরত্ব ও সময়ের এই বিশালতা বোঝানো কঠিন। তাই অন্য গ্রহে ভ্রমণ শুধু প্রযুক্তিগত নয়, মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতাও আছে।

হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. উইলিয়াম অ্যালস্টন বলেন, আলোর গতি হলো মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ গতি সীমা। তার মতে, ভরযুক্ত কোনো বস্তুই এর চেয়ে দ্রুত যেতে পারে না, ফলে আন্তঃনাক্ষত্রিক ভ্রমণ অত্যন্ত দীর্ঘ সময়ের বিষয়।

ড. ভ্যান লুন বলেন, আপেক্ষিকতার কারণে আলোর গতির কাছাকাছি গেলে ভ্রমণকারীর জন্য সময় ধীর হয়ে যায়, ফলে তাদের কাছে যাত্রা তুলনামূলক দ্রুত মনে হতে পারে। তবে এর ফলে তারা নিজেদের সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এসইটিআই গবেষক অধ্যাপক মাইকেল গ্যারেট বলেন, স্পিলবার্গের অসাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাতা হলেও এটি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নয়। তিনি বলেন, পৃথিবী মহাবিশ্বের কোটি কোটি গ্রহের মধ্যে একটি মাত্র। তাই এলিয়েনরা বিশেষভাবে পৃথিবীকেই বেছে নেবে- এটি খুবই অযৌক্তিক ধারণা। তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই এলিয়েনরা আসত, তাহলে আমাদের কাছে ঝাপসা ভিডিও বা গল্পের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত প্রমাণ থাকত।

বিজ্ঞানীরা এখনো কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাননি যে ভিনগ্রহের প্রাণী পৃথিবীতে এসেছে বা আসছে। রেডিও টেলিস্কোপগুলো উন্নত সভ্যতার কোনো সংকেতও খুঁজে পায়নি। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যারল অলিভার বলেন, এলিয়েনদের পৃথিবীতে আসার কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, আকাশে আলো বা ইউএপি দেখা গেলেও তা এলিয়েন হওয়ার আগে আরও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা খোঁজা উচিত।

১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময় মহাকাশচারী বাজ অলড্রিন আকাশে একটি আলো দেখেছিলেন, যা অনেকে ইউএফও হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে পরে তিনি জানান, সেটি সম্ভবত বিচ্ছিন্ন রকেট অংশ বা সূর্যালোক প্রতিফলিত কোনো প্যানেল ছিল। তিনি বলেন, অসাধারণ পর্যবেক্ষণের জন্য অসাধারণ প্রমাণ দরকার। মহাবিশ্বে প্রাণ থাকা সম্ভাব্য হলেও নক্ষত্রগুলোর মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে ভ্রমণ প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন