ম্যাচ শেষে অঝোরে কাঁদলেন ভোজিনহা

টাকার অভাবে বিশ্বকাপে নিতে পারেননি মাকে

ম্যাচ শেষে অঝোরে কাঁদলেন ভোজিনহা

ফন্ট সাইজ:

শেষ বাঁশিতে ফু দিয়েছেন রেফারি। কেউ জেতেনি ম্যাচে। গোলশূন্য ড্র হওয়া একপেশে ম্যাচ তবুও কেড়ে নিয়েছে বিশ্ববাসীর মন। ম্যাচের নায়ক বাঁশি বাজার সাথে সাথেই পোস্টের কাছে ঝুঁকে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন, পরে সতীর্থরা তাকে জড়িয়ে ধরেন। তিনি আর কেউ নন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। তার এই কান্না শুধুই বিশ্বের অন্যতম সেরা দল স্পেনকে রুখে দেয়ার জন্য নয়। এর পেছনে জড়িয়ে আছে এক হৃদয়বিদারক গল্প।

ম্যাচ শেষে ভোজিনহা জানান, যারা তার এই সেরা পারফরম্যান্স দেখতে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তাদের কথা মনে করেই তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাকে বড় করে তোলা দাদা-দাদি কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। আর তার মা মার্কিন ভিসার জন্য সময়মতো টাকা জোগাড় করতে পারেননি। কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের মধ্যে একটি, যাদের নাগরিকদের মার্কিন ভিসা পাওয়ার জন্য ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ডের মুখোমুখি হতে হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব দেশের নাগরিকদের ভিসা শেষ হওয়ার পরও থেকে যাওয়ার হার বেশি, তাদের ওপর কড়াকড়ির অংশ হিসেবে এই নিয়ম করা হয়েছিল। গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কেপ ভার্দে ও অন্য ৪টি বিশ্বকাপ খেলুড়ে দেশের টিকিটধারীদের জন্য এই বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে স্থগিত করলেও সমালোচকরা বলছেন যে অনেক ভক্তের জন্য ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। ভোজিনহার ফুটবল ক্যারিয়ার বেশ দেরিতে শুরু হয়। ২৫ বছর বয়সে অ্যাঙ্গোলার ক্লাব প্রগ্রেসোর হয়ে পেশাদার স্তরে শুরু করেন। এরপর তিনি মলদোভা, সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া এবং পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেস-এর হয়ে খেলছেন। ২০১২ সালে জাতীয় দলে যোগ দেয়ার পর অনেকবার অবসর নেয়ার কথা ভাবলেও এই বিশ্বকাপের স্বপ্নের কারণেই তিনি খেলা চালিয়ে যান। পর্তুগিজ ভাষায় ‘ভোজিনহা’ শব্দের অর্থ ‘ছোট দাদি’। গোলরক্ষক জানান, ছোটবেলায় মাঠে বড় ছেলেরা তাকে হারিয়ে দিয়ে হাসাহাসি করত এবং বলত সে বাড়িতে গিয়ে তার দাদির কাছে নালিশ করবে। সেই থেকেই তার এই ডাকনাম। পরে তার ক্লাবে জোসিমার নামের আরেকজন খেলোয়াড় থাকায় তিনি এই নামেই পরিচিতি পান। ম্যাচের পর বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোজিনহার অনুসারীর সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। কেপ ভার্দের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে ৭টি দুর্দান্ত সেভ করে ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন ভোজিনহা। স্পেনের তারকাখচিত দল এবং তাদের সমর্থকরা ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছিলেন। কারণ বল দখলে অনেক এগিয়ে থেকেও এবং ২৭টি শট নিয়েও তারা ভোজিনহা ও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। এমনকি দ্বিতীয়ার্ধে তরুণ সুপারস্টার লামিন ইয়ামাল মাঠে নামার পরও কোনো লাভ হয়নি। ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন এবং এবারের অন্যতম ফেবারিট স্পেনের বিরুদ্ধে ১ পয়েন্ট পেয়ে ইতিহাস গড়ে কেপ ভার্দে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন