ভারতের বেঙ্গালুরুতে গত ১৩ জুন ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর মরদেহ তার ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এই ঘটনায় রোববার (১৪ জুন) দেশটির পুলিশ এক অটোচালককে গ্রেপ্তার করেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অটোচালক ওই তরুণীকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত তরুণীর নাম ভবানি এস। রাজ্যের তিনি ম্যাগাডি মেইন রোডের তুলসী নগরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। অভিযুক্তের নাম চন্দ্রশেখর ওরফে চান্দু। পুলিশ জানায়, তিনি বিবাহিত হলেও ভবানির সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল এবং তারা গোপনে বিয়েও করেছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভবানি ছিলেন বিএসসি স্নাতক এবং একটি মোবাইলের দোকানে কাজ করতেন। ১৩ জুন সকাল ৭টার দিকে তার পরিবারের কাছে খবর আসে যে, ভবানি ইনস্টাগ্রামে একটি স্টোরি দিয়েছেন, যেখানে তিনি ইঙ্গিত বিয়ে করেছেন এমন আভাস দিয়েছেন। এরপর তার বাবা শ্রীনিবাস তাকে ফোন করেন, কিন্তু ভবানি ফোন ধরেননি। পরে তারা বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে ভবানির খোঁজ নিতে বলেন। এনিয়ে বাড়ির মালিক তাদের জানান, ভবানির থাকার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। এই খবর শুনেই ভবানির বাবা-মা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অন্যদিকে স্থানীয় পুলিশকেও খবর দেয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ভবানিকে মৃত অবস্থায় এবং একজন পুরুষকে অচেতন অবস্থায় পায়। এই অচেতন ব্যক্তিই ছিলেন চান্দু।
পরবর্তীতে চান্দুকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, তারা দুজনই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাদের গোপন সম্পর্ক ও কথিত বিয়ের বিষয়টি সামনে আসে। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভবানির পরিবার অন্য একজনের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করছিল, বিষয়টি তিনি চান্দুকে জানান। তবে চান্দু এই বিয়ের বিরোধিতা করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা শ্রীনিবাসের অভিযোগ, ভবানি বিয়ের কথা চান্দুকে জানায় এবং এর বিরুদ্ধে তাকে শক্ত অবস্থান নিতে অনুরোধ করে। এতেই চান্দু আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং ভবানিকে হত্যা করে। শ্রীনিবাস আরও দাবি করেন, চান্দু প্রথমে ভবানিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা প্রমাণ করতে দুজনের শরীরে বিষ ছিটিয়ে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে চান্দুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবানিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল কিনা, তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ।
