ভারতের রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে বিক্ষোভে বক্তব্য দেয়ার আগেই হামলার শিকার হয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। এর আগে স্থানীয় সোমবার ৩টায় শহরের শহীদ স্মারকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সমাবেশস্থলের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভিড়ের মধ্যে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তার গলায় থাকা স্কার্ফ টেনে ধরেন, তাকে একাধিকবার চড় মারেন এবং কাঁধ থেকে নিচে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় সিজেপির রাজ্য মুখপাত্র অভিষেক জৈন বিট্টু প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, যেভাবে এই হামলা হয়েছে, তাতে পুলিশ ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
অভিষেক জৈন অভিযোগ করেছেন, সমাজবিরোধীদের ঠেকানোর বদলে প্রশাসন এমন পরিস্থিতি ঘটতে দিয়েছে। রাজস্থান সরকার ও পুলিশের আচরণ নিন্দনীয়। জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ছাড়া সংগঠনটির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রানকা অভিযোগ করেন, মানুষ যাতে প্রচণ্ড গরমের কারণে সমাবেশে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হয়, সে জন্যই প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে জুন মাসের বিকেল ৩টায় কর্মসূচির সময় নির্ধারণ করেছে। এদিকে হামলার শিকার হওয়ার পর অভিজিৎ দিপকে বলেন, সমাবেশস্থলে প্রবেশের সময় আমার ওপর হামলা হয়েছে। যত হামলাই হোক না কেন, আমি কারও ওপর হাত তুলব না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমাদের ভয় দেখানো, হুমকি দেয়া এবং মূল ইস্যু থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্যই এসব কৌশল নেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা ইস্যু থেকে একচুলও সরে যাবো না। আমাদের একটাই দাবি- ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপি ভারতজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেছে। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বড় সমাবেশের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ আন্দোলন পরে অমৃতসর, পুনে, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও লখনউয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিজিৎ দিপকে জানান, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এ আন্দোলন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কথিত পরীক্ষা-অনিয়ম, বিশেষ করে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই-সংক্রান্ত বিতর্কের দায় নিয়ে পদত্যাগ না করলে দিল্লিতে আরও বড় আন্দোলন হবে। দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে গত মে মাসে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান ঘটে। ‘ককরোচ’ শব্দটিকেই প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
