পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ জবাব চাইলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। সোমবার (১৫ জুন) বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের গুলিতে অস্ট্রেলীয় এক শিশুকন্যা নিহতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানোর জন্য আলবানিজ পাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, গত ১০ জুন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চকওয়ালে ৯ বছর বয়সী হানিয়া আহমেদ এবং তার পরিবার ভাড়া করা এক গাড়ির ভেতরে সশস্ত্র ডাকাতদের হাতে বন্দি হন।
পাঞ্জাব পুলিশ জানায়, সশস্ত্র ব্যক্তিরা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। দেশটির পুলিশ দাবি করেছে, সন্দেহভাজনকারীরা পরিবারটির গাড়ি নিয়ে পালাচ্ছে ভেবে এক পুলিশ কর্মকর্তা ‘ভুলবশত’ গুলি চালায়। এতে হানিয়া আহমেদের মৃত্যু হয় এবং তার বাবা ও বড় ভাই আহত হন।
এ ছাড়া পাঞ্জাব পুলিশের দাবি করে, প্রথমে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে অস্ত্রধারীরা গুলি চালায়। তবে মেয়েটির বাবা বলেন, পুলিশই প্রথমে গুলি চালিয়েছে।
এই ঘটনায় ক্যানবেরায় সোমবার সাংবাদিকদের আলবানিজ বলেন, পরিস্থিতিগুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেগুলো স্বচ্ছভাবে তদন্ত করতে হবে, যাতে সবাই জানতে পারে- বিশেষ করে পরিবারটি, এবং একই সঙ্গে অন্যরাও। তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া প্রত্যাশা করে যে এই পরিস্থিতি নিয়ে স্বচ্ছ ও যথাযথ তদন্ত হবে।
এদিকে পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, আমাদের প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনোভাবেই যৌক্তিকতা নেই। আমরা একটি সম্পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করছি।
হানিয়ার মৃত্যু অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান- উভয় দেশেই গভীর শোক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
পার্থের অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক কলেজের প্রধান আবদুল্লাহ খান বিবিসিকে বলেন, হানিয়ার মৃত্যুর খবর তাদের স্কুল কমিউনিটির জন্য বেদনাদায়ক। তিনি বলেন, হানিয়া ছিল অত্যন্ত বন্ধুবৎসল, প্রাণবন্ত এবং মিশুক। আবদুল্লাহ খান জানান, হানিয়ার অনেক বন্ধু ছিল এবং সে শিক্ষকদের প্রতি ছিল খুবই শ্রদ্ধাশীল।
অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, তারা নিহত শিশুটির পরিবারের জন্য কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে।
এদিকে পাক কর্তৃপক্ষ বলছে , পরিবারটির ওপর গুলি চালানো কর্মকর্তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক এক বন্দুকযুদ্ধে দুই সন্দেহভাজন নিহত হয়েছে।
