কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার গ্রামবাসীর মধ্যে টেটাযুদ্ধ লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় থানার অন্তত ৪০ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার তিতাস উপজেলা নতুন ভাটেরারচর গ্রামের পাশ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামে এই টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। আহতদের তিতাস ও মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
তিতাস উপজেলার আহতরা হলেন, সুলতান মিয়া(৫৫), নাছির উদ্দিন (৫২) ও মো.কবির মিয়া(৪৫)সহ আরো ১৫ জন আহত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম পাওয়া যায় নাই। অপরদিকে মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের প্রায় ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামবাসী জানায়, প্রায় ২০ বছর পূর্বে গ্রামের পশ্চিম পাশের একটি চরের একাংশ নিয়ে উভয় উপজেলার মামলা মোকদ্দমা হয়। পরে আদালতের রায় এবং জেলা প্রশাসনের বন্দোবস্তের ভিত্তিতে নতুন ভাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দারা ওই জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। হঠাৎ করে সোমবার সকালে চরবিনোদপুর গ্রামের সেলেম ও ছেনুর নেতৃত্বে আলীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ট্রলারে করে এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নারী, পুরুষ ও শিশুরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকে।
এসময় তিতাসের নতুন ভাটেরারচর গ্রামের আশর আলীর দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করাসহ আরো ৬ টি ঘর ভাংচুর করে। ভাংচুর ও লুটপাট করা ঘরগুলো হলো, শাহ আলম মেম্বারের ১টি, আলী আহম্মেদের ১টি, শফিক মিয়ার ১টি, নুর মোহাম্মদেরব ১টি ও গরীব হোসেনের ১টি ঘর ভাংচুর করে।
খবর পেয়ে তিতাস ও মেঘনা থানা পুলিশ যৌথ প্রচেষ্টার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ভাটেরারচর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শুক্কুর ভূইয়া বলেন, আনুমানিক ২০ বছর পূর্বে এই চরটি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করে উভয় থানার লোকজন। কিন্তু নতুন ভাটেরারচর গ্রামের পক্ষে রায় আসলে সরকার তাদেরকে লিজ দেয় সেই সুবাদে আমাদের গ্রামের নিরহ লোকজন লিজপ্রাপ্ত হয়ে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আজকে মেঘনা উপজেলায় চরবিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন নদী পার হয়ে আমাদের গ্রামে এসে অতর্কিত লুটপাট ভাংচুর করেছে তা খুবই দুঃখজনক।
তিতাস থানার সেকেন্ড অফিসার মাহমুদুল বলেন, আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অফিসার ও ফোর্স নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি। কিছুক্ষণ পর মেঘনা থানা পুলিশ এসে তাদের এলাকার লোকজন নিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। মেঘনা থানার সেকেন্ড অফিসার আক্তারুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে তিতাস থানা পুলিশ ও আমরা যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে মেঘনার লোকজন নিয়ে আসি।
মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক তানভীর লতিফ বলেন, প্রায় ৩০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা নিতে। এদের মধ্যে সবাই ইটের আঘাত প্রাপ্ত। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে।
