দুদকের সার্চ কমিটি গঠনে সহযোগিতা পাইনি

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুদকের সার্চ কমিটি গঠনে সহযোগিতা পাইনি

ফন্ট সাইজ:

দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটিতে প্রধান বিচারপতি তাঁর প্রতিনিধির নাম পাঠিয়েছেন গতকাল (রোববার)। তাই এখন যে কোন সময় সরকার এ সার্চ কমিটি করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘হয়তো আপনারা মনে করে নিয়েছেন সরকার আন্তরিক না। সরকার আন্তরিক ছিল। চিঠি দিয়েছে, সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু আমরা সহযোগিতাটা পাইনি। গতকালকে (রোববার) কেবল সই করে দিয়েছেন। এখন সার্চ কমিটি গঠিত হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে দুদকের অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাটাই প্রস্তাবের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুদকের জন্য অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবি সংসদে তোলেন।

একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিষ্ঠিত হবে- মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সার্চ কমিটি আগের আইনেও ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশটা গ্রহণ করা না গেলেও আগের আইনটা রিভাইভ হয়েছে। ওখানেও সার্চ কমিটি আছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সার্চ কমিটি অনুসারে দুর্নীতি দমন কমিশনটা গঠন করার জন্য সার্চ কমিটি গঠনের জন্য, যেই কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, দয়া করে কালকে (রোববার) মাননীয় প্রধান বিচারপতি অনেকদিন পরে তাঁর প্রতিনিধি নিয়োগ করেছেন বহু দিন গড়িয়ে গেছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো আপনারা মনে করে নিয়েছেন সরকার আন্তরিক না। সরকার আন্তরিক ছিল। চিঠি দিয়েছে, সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু আমরা সহযোগিতাটা পাইনি। গতকালকে কেবল সই করে দিয়েছেন। এখন সার্চ কমিটি গঠিত হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনও গঠিত হবে। দুর্নীতির সমস্ত বিষয় এড্রেস করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা হচ্ছে একটা মধ্যবর্তী ব্যবস্থা। দুর্নীতি দমন কমিশন বিল সংসদে পাস হলে তখন আরো শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন হবে। রুমিন ফারহানার একটি বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি সব জায়গায় হয়। ঘুরে ফিরে সব দোষ রাজনীতিবিদের হয়। কিন্তু যতগুলো ফাইল স্বাক্ষর হয় লাস্টে রাজনীতিবিদকে স্বাক্ষর করতে হয়। এজন্য সব দোষ তার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী দুদক গঠন করা হবে বলে দুদক অধ্যাদেশ গ্রহণ করা হয়নি। এখন এটা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেছেন দেশে দুর্নীতিতে ‘টপ মোষ্ট’ দুটি পেশা কী। এক নম্বরে রাজনীতিবিদদের নাম, দুই নম্বরে আছে আমলাদের নাম। রাজনীতি করলে পয়সা উৎপাদন হয় এটা সম্ভবত বাংলাদেশের মতো দেশেই সম্ভব। যেই দেশটি ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বালিশ দুর্নীতি, ব্যাংক লুটসহ বিভিন্ন দুর্নীতির কথা তুলে ধরে রুমিন বলেন, আমাদের আশা ছিল, ৫ আগষ্টের পর যখন নতুন বাংলাদেশের কথা হচ্ছে, তখন দুদককে নখদন্তহীন বাঘ থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করতে পারবো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রস্তাব দিয়েছিল, অধ্যাদেশ দিয়েছিল। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর একশ’র উপর অধ্যাদেশ আইনে পরিনত হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন আইন করা হয়নি। দুদককে নখদন্তহীন বাঘ থেকে বের হওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের না হওয়ার উদাহরণ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, এই সরকার আসলে দুর্নীতি দমন করার ব্যাপারে কতটুকু আন্তরিক।

রুমিন বলেন, একটার পর একটা ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করেনি, একইভাবে অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারও দুদক শক্তিশালী করার ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক নয়।

জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দুদকের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে আমরা হতাশ। দীর্ঘদিন ধরে আমরা লক্ষ্য করছি এখানে স্বাধীরতা বলতে কিছু থাকে না। একটা প্রভাব তাদের উপরে বিস্তার করে। চেয়ারম্যান ও কমিশন নিয়োগের জন্য স্বচ্ছ সার্চ কমিটি লক্ষ্য করি না। বরং পছন্দের আলোকে, চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটা আদর্শকে সামনে রেখে সেখানে তাদেরকে দেওয়া হয়। তদন্ত এবং মামলা পরিচালনা রাজনৈতিক প্রশাসনিক অন্য কোন প্রভাবভুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হয় না। সঙ্গত কারণে কমিশনের জবাবদিহিতা লক্ষ্য করি না।

তিনি বলেন, এই জায়গায় ছোট ছোট মাছগুলো মাকড়সার জালে আটকা পড়ে, পোকামাকড়গুলো আটকা পড়ে। বড় বড় রুই কাতলাগুলো মাকড়ার জাল থেকে বেরিয়ে যায়। সংগত কারণে দুদকে একটা নাখদন্তহীন বাঘ হিসেবে তুলনা করা হয়। দুদকে যারা ভূমিকা পালন করেন ডিজিটাল ফরেনসিক সাইবার অপরাধ, অর্থ পাচার, বিশেষ করে এই যে ১৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, এই পাচার রোধে বা এই পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের স্বদিচ্ছার অভাব থেকে এটা হয় না। সরকারের প্রভাব বিস্তারের একটা বিষয় আমরা লক্ষ্য করি।

উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমান প্রয়োগ, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী যেকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে, বিশেষ করে যদি মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি হন, তার ধারের কাছেও যাওয়ার সুযোগ কখনো দুদকের হয় না। স্বাক্ষী ও তথ্যদাতাদের সুরক্ষার বিষয়ে মাসুদ বলেন, সাক্ষী এবং তথ্যদাতাদের সুরক্ষাটা দেওয়া হয় না। সংগত কারণে প্রভাব বিস্তার করার বলয় আমরা লক্ষ্য করি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন