ইইউর নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর

কঠোর হচ্ছে আশ্রয় ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ প্রায় এক দশকের আলোচনা, মতবিরোধ ও সংস্কার প্রক্রিয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে ইউরোপের বহিঃসীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কঠোর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইইউর ‘প্যাক্ট অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম’ নামে পরিচিত এই নতুন কাঠামোকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় অভিবাসন সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আশ্রয় প্রক্রিয়ায় সমন্বয় আনাই এর মূল লক্ষ্য।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাহ্যিক সীমান্তে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা হবে। সীমান্ত পর্যায়েই প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার তুলনামূলকভাবে কম, তাদের ক্ষেত্রে দ্রুত সীমান্তভিত্তিক আশ্রয় প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। আবেদন গ্রহণযোগ্য না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের আওতায় আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং যারা নির্যাতন, সংঘাত বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে রয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করার অধিকার বজায় রাখবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছানো অভিবাসীরা নতুন নীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ইতালিগামী রুটটি দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার অর্থ এই নয় যে, লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পৌঁছানো প্রত্যেক ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। আশ্রয়ের আবেদন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে, আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে নতুন প্রত্যাবাসন কাঠামো নিয়ে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ লক্ষ্যে ইউরোপের বাইরে বিশেষ প্রত্যাবাসন কেন্দ্র বা ‘রিটার্ন হাব’ গঠনের বিষয়েও আলোচনা এগিয়েছে। যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ধরনের ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, নতুন আইন সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে এবং অভিবাসন চাপ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করবে। তবে সমালোচকদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আশ্রয়প্রার্থীদের ন্যায্য আইনি সুযোগ সীমিত করতে পারে এবং সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসনের সংখ্যা ওঠানামা করলেও ভূমধ্যসাগরীয় রুট এখনো সক্রিয় রয়েছে। ফলে নতুন এই আইন বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় কতটা পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়, তা নিয়ে ইউরোপজুড়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন