আমরা জনগণের রায়ের পক্ষে, সংশোধন নয় সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি করলে থাকব : জামায়াত আমীর

আমরা জনগণের রায়ের পক্ষে, সংশোধন নয় সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি করলে থাকব : জামায়াত আমীর

ফন্ট সাইজ:

আমরা জনগণের রায়ের পক্ষে, সংশোধন নয় সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি করলে থাকব বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। আজ দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ বিটের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম , জামায়াতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম ও অধ্যাপক মুজিবুর রহমান , জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান , জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন , কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী , কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম , জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।

মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের ও জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার করা। এজন্য গণভোট হয়েছে। ৭০ ভাগ মানুষ যেটাতে ভোট দিয়েছে আমরা সংসদে এসে সেটা বদলাতে চাই না। আমরা জনগণের রায়ের পক্ষে। অতএব, সংশোধন নয় সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি করলে সেখানে থাকবো। এটি স্পষ্ট যে সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি দরকার নেই। সংবিধান সংস্কারের জন্য ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আসবে আমরা আলোচনা করব সংসদে। এজন্য সংস্কারের জন্য কমিটির প্রস্তাব আসলে আমরা বিবেচনা করব। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জনগণের দাবি ছেড়ে দেবো না। আমাদের সে অধিকার নেই। যেটা সংসদে সমাধান হওয়ার সেটি সংসদে হবে। যেটা রাজপথে হওয়ার সেটি রাজপথে হবে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে পারি না। জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার কাজ আমরা করব না। আমরা আশাবাদী আজ হোক বা কাল- এ দাবি আদায় হবে। সবাই বলেছেন জনরায়কে মেনে নেয়া উচিৎ। জনস্বার্থে আমরা বিএনপির সাথে কথা বলেছি। বিরোধীদলকে গরম কিংবা নরম না ভেবে দেশের স্বার্থে একটি যৌক্তিক বিরোধীদল ভাবার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির দুটি অঙ্গ বিধ্বস্ত। শেয়ার বাজার মাটির সাথে মিশে গেছে। দেশের শেয়ার বাজার নিয়ে এখন আর কেউ কথা বলে না। ব্যাংকের হাড় গুড়া হওয়ার উপক্রম। এটি নিয়ে আমরা সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলেছি। আমীরে জামায়াত বলেন, সীমান্তে পুশইন নিয়ে আমরা নোটিস দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটি নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে।

নোটিসদাতাকে ডেকে নিয়ে সেনসিটিভ ইস্যু উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন বাজেট অধিবেশন চলছে। গতকাল সম্পূরক বাজেট পেশ হয়েছে। ৯১ বিধি অনুযায়ী সম্পূরক বাজেটটি পেশ করতে হয় মার্চে। কিন্তু সেটি জুনের মাঝখানে এসে পেশ করা হচ্ছে বিশেষ অসুবিধার অযুহাতে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা যথেচ্ছ খরচ করার পর ৫৬ হাজার কোটি টাকার অনুমোদ নেয়া হচ্ছে। আমরা হয়তোবা ক্রিটিক্যাল এনালসিস করব, কিন্তু লাভ কী? দুই-তৃতীংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা পাস হয়ে যাবে।

এখানে আমাদের পর্যালোচনা অর্থহীন। শেষের দিকে যে অর্থ খরচ করা হয়, তার বড় অংশ পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়, লুটপাট করা হয়, দায়বদ্ধতা থাকে না, শেষের দিকে যে টাকা ছড়ানো হয় তা দিয়ে কিছু লোকের পেট ভরানো হয়। জনগণের কোনো উপকার হয় না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে বর্ষাকালে (মে ও জুন) মাসে যে কাজগুলো করা হয় সেগুলোর কোনো ন্যূনতম মান থাকে না। এজন্য আমাদের সুস্পষ্ট প্রস্তাব থাকবে ক্যালেন্ডার বর্ষ অনুযায়ী অর্থবছর অর্থাৎ জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার। যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশসহ আমাদের মতো ট্রপিক্যাল কান্ট্রিতেও রয়েছে।

SM Rafiqul Islam

২৩ ঘন্টা আগে

জনগণ সংবিধান সংশোধন নয় সংষ্কারের পক্ষে গণভোট দিয়েছে। কাজেই অন্য সব কথা বলে জণগণের রায়কে ভন্ডুল করার কোন সুযোগ নেই। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন