বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে মালয়েশিয়া-রাশিয়া

ব্লুমবার্গ-এর খবর

বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে মালয়েশিয়া-রাশিয়া

ফন্ট সাইজ:

দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিজেদের স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য পরিচালনার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে মালয়েশিয়া ও রাশিয়া। রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত আসিয়ান-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গসহ বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে মালয়েশীয় রিঙ্গিত ও রুশ রুবল ব্যবহারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। উভয় দেশই মনে করছে, আন্তর্জাতিক লেনদেনে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মালয়েশিয়া ও রাশিয়ার মধ্যকার এই নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় ৬৮ কোটি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই সংকটের মুহূর্তে রাশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর কাছে একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠকে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। রাশিয়া মালয়েশিয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং এই খাতে টেকসই অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশটির সংবাদ মাধ্যমগুলো লিখেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং জনকল্যাণে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘মাদানি’ সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে কৌশলগত ও সক্রিয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত এই দুই দিনব্যাপী আসিয়ান-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনটি ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি এই সম্মেলন রাশিয়াকে এশিয়ায় তার কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। সম্মেলন শেষে দুই দেশ অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন