বিদেশি নাগরিক বা ইমিগ্রেন্টদের প্রতি আবারো কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইউকে রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ। তার মতে বিদেশি নাগরিকরা সরকারের সামাজিক আবাসন বা কাউন্সিল হাউস থাকতে পারবেন না। সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর সূত্রমতে রোববার প্রকাশিতব্য তার নতুন প্রবন্ধে ফারাজ প্রস্তাব করেন, বৃটেনের সামাজিক আবাসন বা কাউন্সিল হাউজিং ব্যবস্থায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের তিন মাসের মধ্যে বিকল্প ব্যক্তিগত বাসস্থান খুঁজে নেয়ার নির্দেশ দিতে হবে।
যদি ওই নির্দেশনার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি নাগরিকরা বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হলে তাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার বাতিল করে বহিষ্কারের আওতায় আনতে হবে ।
তার মতে রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় এলে সামাজিক আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে যুদ্ধফেরত সেনাসদস্য, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকায় বসবাসকারী বৃটিশ নাগরিক, ডমোস্টিক ভায়োল্যান্সের শিকার ব্যক্তি এবং কেয়ার সেন্টার থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে বৃটিশ নাগরিকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এতে সামাজিক আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে যুদ্ধফেরত সেনাসদস্য, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকায় বসবাসকারী বৃটিশ নাগরিক, ডমোস্টিক ভায়োল্যান্সের শিকার ব্যক্তি এবং কেয়ার সেন্টার থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তিনি মনে করেন ,আবাসন নীতির পরিবর্তনের কারণে কিছু এলাকায় মূল বৃটিশ জনগোষ্ঠী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং এর ফলে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সামাজিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন , যেসব বিদেশি নাগরিক তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডের পরও ব্যক্তিগত ভাড়া বাসায় স্থানান্তরিত হতে পারবেন না, তারা যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার হারাবেন এবং ‘অপারেশন রিস্টোরিং জাস্টিস’-এর আওতায় বহিষ্কারের জন্য দায়বদ্ধ হবেন। দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের ক্ষেত্রে সরাসরি কাউন্সিল বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। তবে তাদের হাউজিং বেনিফিটসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুবিধা কমিয়ে আনা হতে পারে। ২০২০ সালের পর থেকে হাজার হাজার সামাজিক আবাসন শরণার্থীদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা তিনি একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলে বর্ণনা করেন।
তার এই প্রস্তাবকে অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফারাজের প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছে সরকারপক্ষ। হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিডের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, এ ধরনের নীতি বাস্তবায়ন করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা আইসিই এর আদলে একটি বিশেষ বহিষ্কার বাহিনী গঠন করতে হবে।
