নরওয়ের রাজকন্যা মেতে-মারিতের ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবি (২৯) দুটি ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই ঘটনায় সোমবার (১৫ জুন) ওসলো জেলা আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। খবর বিবিসির। ওসলো জেলা আদালতের ২৫০ নম্বর কক্ষের তিন বিচারকের বেঞ্চ ১২৮ পৃষ্ঠার রায়ে জানায়, ধর্ষণের দুটি অভিযোগ ছাড়াও হোইবি আরও কয়েকটি অপরাধে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। রায়ের সময় অসুস্থতার কারণে হোইবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন তিনি। এর আগে প্রসিকিউটররা হোইবির সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। তবে, তার আইনজীবীরা ১৮ মাসের কম কারাদণ্ডের আবেদন করেন।
বিবিসি বলছে, হোইবি যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্য না তবে এই বিচার দেশটির রাজপরিবারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। হোইবির মা যখন যুবরাজ হাকনকে বিয়ে করেন, তখন তার বয়স ছিল চার বছর এবং এরপর তিনি এই পরিবারের মধ্যেই বড় হয়েছেন। নরওয়ের রাজপরিবার জানিয়েছে, সোমবারের রায়ের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না। এদিকে ক্রাউন প্রিন্সেস মেতে-মারিত বর্তমানে পালমোনারি ফাইব্রোসিসে গুরুতর অসুস্থ এবং সম্প্রতি তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করেও হোইবির আইনজীবীরা কয়েক দফা তার মুক্তির আবেদন করেছিলেন, যাতে তিনি মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন।
রায়ের পর হোইবির আইনজীবী পেতার সেকুলিক আবারও তার মুক্তির আবেদন জানান। যদিও গত সপ্তাহে আদালত হোইবির মুক্তির অনুমোদন দিয়েছিল, তবে পরবর্তীতে নরওয়ের সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে। আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০১৮ সালে স্কাউগুমে ক্রাউন প্রিন্সের এস্টেটে এক নারীকে ধর্ষণ এবং ২০২৪ সালে ওসলোতে আরেক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় হোইবি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বিচারকদের মতে, দুই নারীই ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন এবং প্রতিরোধ করতে অক্ষম ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ওসলোর হোটেলে পরিচিত এক নারী এবং ২০২৩ সালে লোফোটেন দ্বীপপুঞ্জে আরেক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়েছে হোইবিকে।
এ ছাড়া নরওয়েজিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার নোরা হাউকল্যান্ড নামের সাবেক প্রেমিকাকে নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে হোইবিকে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের আগস্টে ওসলোর অভিজাত ফ্রগনার এলাকায় বসবাসকারী আরেক নারীর ওপর গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। ওই নারী গণমাধ্যমে ‘ফ্রগনার নারী’ নামে পরিচিতি পান। মোট ছয়জন নারীকে ঘিরে এই মামলার বিচার হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় অভিযোগকারী নারীদের মধ্যে মাত্র একজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিবিসি জানিয়েছে, ধর্ষণের ঘটনায় হোইবি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে কাঁদতে দেখা গেছে। চারটি ধর্ষণের অভিযোগেই অভিযোগকারী নারীরা ঘুমন্ত অথবা অচেতন অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। রায়ে চারজন নারীকে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রোনার (প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড বা ৫৭ হাজার ইউরো) ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তাদের মধ্যে নোরা হাউকল্যান্ডই একমাত্র নারী, যার নাম প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন বিচারকরা। এদিকে, হোইবি এর আগে ৩ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা বহন এবং কয়েকটি ট্রাফিক অপরাধের মতো কম গুরুতর অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তবে তার আইনজীবীরা এখন চার বছরের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। নরওয়ের রাজপরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং রায়ের ফলাফল নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।
