স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে এবারের বাজেটে জিডিপি’র এক শতাংশ অর্থাৎ ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী। ১লা জুলাইয়ের পর থেকে স্বাস্থ্য খাতে কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে শুধু নারীদের জন্য দেড় হাজার বেডের দু’টি স্পেশালাইজড হাসপাতাল করা হবে। যেখানে কিডনি ডায়ালাইসিস, ব্রেস্ট ও ইউটেরাস ক্যান্সার ইউনিট, পঙ্গুত্ব নিরাময় এবং জেনারেল ডেলিভারি সুবিধা থাকবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০০০ বেডের আরও ১৮টি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জরুরি রোগী বহনের জন্য এই হেলথ স্কিমের আওতায় ৪টি হেলিকপ্টার এবং প্রতিটি হাসপাতালে ৫টি করে অত্যাধুনিক এম্বুলেন্স দেয়া হবে। নিয়োগ দেয়া হবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী। যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জসহ ১০টি জেলায় আইসিইউ ইউনিটের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যান্য ৯টি জেলার সিভিল সার্জনরা ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন।
উদ্বোধন হওয়া জেলাগুলো হলো- নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট, শেরপুর, মাদারীপুর, বাগেরহাট এবং গোপালগঞ্জ। এই হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ চালুর পাশাপাশি ৫টি করে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, ভেন্টিলেটর এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল অফিসার পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে চলতি সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি আইসিইউতে সিপ্যাপ, বাইপ্যাপ এবং হাইফ্লো নেজাল ক্যানুলা সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আগে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে হাসপাতালের কিচেন (পাকঘর), বাথরুম এবং চারপাশের চরম অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশ দেখে সিভিল সার্জনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারকে (এসপি) শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে কঠোর নজর দেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু স্যালাইন দিয়ে কাজ হবে না, চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রয়োজনে ঢাকায় তৈরি করা মোবাইল হাসপাতালের মতো নারায়ণগঞ্জেও মোবাইল হাসপাতাল করা হবে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির উপর একটি বিশাল ‘ক্রিয়েটিভিটি পার্ক’ বা ট্রেড সেন্টার গড়ে তোলা হবে। যেখানে শীতল পাটি, নকশিকাঁথা, টেরাকোটা ও ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প সামগ্রী তৈরি ও প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি হেলথ) প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
