রোববারতৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেভাঙন নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা। রোববার সন্ধ্যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এমনটাই জানিয়ে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ব্লকের ২০ জন সাংসদ।এই দলটির নাম ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)। এটি ত্রিপুরার একটি অনামী দল। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এই দলে যোগ দিলেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসক জোট এনডিএ-কেই সমর্থন করবেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরা। রোববার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার আগেই লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা অভিষেক বন্দোপাধ্রায়ের চিঠি পৌঁছে গিয়েছিল স্পিকারের কাছে। অভিষেকের চিঠির পরই কৌশলগত ভাবে আলাদা ব্লকের দাবি না জানিয়ে নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বিদ্রোহী সাংসদরা বলে জানা গিয়েছে।
রোববার দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদরা যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক করছিলেন ঠিক তখনই মমতার অনুগামী লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ ও রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের একটি চিঠি তুলে দিয়েছেন। তিন পাতার সেই চিঠিতে অভিষেক লিখেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। আইনতও তৃণমূল কংগ্রেস একটিই। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের মধ্যে কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে যাতে স্বীকৃতি না-দেওয়া হয়, স্পিকারের কাছে সেই আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ও বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। । শনিবার দিল্লি উড়ে গিয়ে তিনি খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তার আগে শতাব্দী রায়কে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে। বিধানসভায় ষাট বিধায়কের বিদ্রোহের পর সংসদেও ১৯ জন বিদ্রোহ ঘোষনা করেছিলেন। এবার মমতার দল তৈরির সঙ্গী প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায় যোগদানের ফলে বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০জন। তবে রোববার সকালেকিলকাতা থেকে দিল্লি উড়ে যাবার আগে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইঙ্গিতপূর্ণর্ভাবে বলেছেন, তাদের সঙ্গে রয়েছেন ২২ জন সাংসদ। তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন মোট ২৮ জন সাংসদ সাংসদ।
জানা গিয়েছে, আগামী দিনের পরিকল্পনা ঠিক করতেই বৈঠকে বসেছিলেন বিদ্রেঞিী সাংসদরা। ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে এই বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই বৈঠকে রয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে।
এদিকে, মমতাকে নিঃসঙ্গ করে দলত্যাগ করেছেন সাবেক তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের অবস্থানের সঙ্গে তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন না। সেই কারণেই তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, নিজের ইস্তফাপত্র হোয়াটসঅ্যাপ মারফত দলনেত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তবে দল ছাড়লেও সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন মানস ভুঁইয়া। তাঁর দাবি, জনসেবার কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে সরে আসবেন না। ভবিষ্যতে তিনি কোন রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও আপাতত বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি। একইভাবে কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নেও কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি প্রাক্তন মন্ত্রী।
তৃণমূল কংগ্রেসে ফের বদল : তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বারে বারে দলের সাংগঠনিক বদল ঘটাতে বাধ্য হচ্চেন। কয়েকদিন আগেই সাংসদ সায়নী ঘোষকে দলের য্ব সংগঠনের সভাপতি করেছিলেন।সেইসঙ্গে মালা রায়কে করেছিলেন মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী। তবে দুজনই বিদ্রোহী শিবিরে চলে যাওয়ার ফের বদল ঘটাতে হয়ে সাংগঠনিক স্তরে। সায়ষীর জায়গায় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়েছে ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ অণর্ব বন্দোপাধ্যায়কে। আর মহিলা দলের সভানেত্রী করা হয়েছে আলিয়া আহমেদকে। আবার সুদীপ দল ছাড়ায় উত্তর কলকাতার সভাপতি করা হয়েছে বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের চেয়ারম্যানের পদ থেকে দেবাংশু ভট্টাচাযর্কে সমালোচনার জন্য সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে উপাসনা চৌধুরিকে।
