ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মাদক। এর প্রভাব পড়ছে সমাজের কিশোর ও যুব সমাজের মাঝে। হত্যাকাণ্ড, চুরি, ছিনতাইসহ ধর্ষণের মতো অপরাধ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের সখ্যতা আছে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশকে তথ্য দিলে তারা তথ্যদাতার নাম জানিয়ে দেয়। ফলে তথ্য দিয়ে উল্টো বিপদে পড়তে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক কারবারিরা নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে মাদক ব্যবসা করছেন প্রকাশ্যে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে মাদকের অভিযান চলছে। কিন্তু ফুলবাড়ীয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযান বা বড় কোনো মাদক কারবারি আটক হয়নি। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দেন।
এরপর থানা গেট পার হওয়ার আগেই মাদক কারবারিরা সেখানে চলে আসে অভিযোগকারীকে ধরার জন্য। তাদেরকে ফোন করে জানিয়ে দেয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হাবীব বলেন, আমার বাড়ির পাশে সন্ধ্যার পর মাদকের আসর বসে, আমি আমার পরিচয় দিয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেও কোনো লাভ হয়নি। আমরা পুলিশের কাছে অসহায়। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মাদক। এতে ১২ বছর থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোররাও মাদকসেবনে আসক্ত হয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মাদকের টাকা না পেয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। মাদকের টাকা জোগাতে সমাজবিরোধী বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থানা-পুলিশ কর্তৃক ভয়াবহ নিষিদ্ধ মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দমনে তেমন কোনো ভূমিকা না থাকায় ভুক্তভোগী অভিভাবকরা তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন।
উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়ন, ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক মহলে ব্যানারে মাদক জুয়া চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেও কাজ না হওয়ায় মাদক জুয়া বন্ধ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন।
পৌরসভার মাদক কারবারি সিদ্দিক মিয়া ইয়াবার বড় কারবারি বলে স্থানীয়রা জানান। উপজেলা জুড়ে তার খুচরা বিক্রেতা রয়েছে। সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেন। সমিতির আড়ালে করে যাচ্ছে এই ব্যবসা। স্থানীয়রা এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পায়। কেউ কথা বলতে চায় না। মাদক কারবারির কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে বলে স্থানীয়রা জানান। সিদ্দিকের ভাগিনা টুনু, আক্তার, স্বপন এরা নিয়ন্ত্রণ করে তার অনুপস্থিতিতে। উপজেলার কুশমাইল দক্ষিণ দেওনাইপার চৌরাস্তায় নুরুল ইসলামের দোকানে মাদক বিক্রি হয় দিন- রাত চব্বিশ ঘণ্টা।
এ ছাড়াও কলিম উদ্দিনের ছেলে মোকসেদ আলী ও তার স্ত্রী মিলে এ ব্যবসা করেন। জালাল উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন, কোব্বাত আলীর ছেলে শাহজাহান ও নুরুল ইসলাম দুই ভাই জেল থেকে বেরিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে। পাশেই চলে জুয়ার আসর। এদের কাছে পাবনা থেকে লাভলী নামে এক মহিলা মাসে দুইবার গাঁজার বড় চালান নিয়ে আসে। মাঝে মাঝে মোকসেদ ও তার স্ত্রী নিয়ে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকাসক্ত যুবক বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে টাকা দেয় বলেই প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে।
সূত্র জানায়, উপজেলার চৌদার গ্রামে যৌন উত্তেজক নিষিদ্ধ ওষুধ ও মাদক ব্যবসা করে অনেকেই গাড়ি বাড়ির মালিক হয়েছেন। তারা অনেক ক্ষমতাধর, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারে না। বললেই শুরু হয় নির্যাতন ও পুলিশের হয়রানি। জোবায়ের নামের এক যুবক মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মাদক ব্যবসায়ী মজনু ও তার মা পাপিয়া ও মাদকাসক্তদের নিয়ে মিলে মারধর করে। মাদক বিক্রেতা পাপিয়াকে বাঁচানোর আকুতি জানালে সে বলে ওকে মেরে ফেল। মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করে ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, আমি মাদকের বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি, অভিযান চলমান আছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ময়মনসিংহ (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান হচ্ছে, হয়তো তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে আমি বিষয়টি দেখছি।
