ডুমুরিয়ায় পশুর হাটের হাসিলের টাকা আদায় নিয়ে নানা প্রশ্ন

ফন্ট সাইজ:

খুলনার ডুমুরিয়ায় পশুহাটের হাসিলের টাকা আদায় করা হচ্ছে নিয়মবহির্ভূতভাবে। অন্যদিকে ভোগান্তিতে পড়ছে গ্রামের পশুপালনকারী দরিদ্র চাষিরা। চলতি বছরের দুইমাস অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ বলছে সময়ের অভাবে টোল চার্ট দিতে পরেননি। খোঁজ নিলে জানা যায়, উপজেলাতে মোট গরু-ছাগলের বড় হাট রয়েছে চারটি। দুইটি হাট টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেয় উপজেলা প্রশাসন। বাকি দুইটিতে চলছে খাস আদায়।

যদিও নিয়ম রয়েছে প্রত্যেকটি হাটে অনুমোদিত টোল চার্ট টানিয়ে রাখার, একটিতেও টোল চার্ট চোখে পড়েনি। সরজমিন দেখা যায়, সেখানে গরু-ছাগল কেনাবেচা চলছে। কোন নিয়মে হাসিলের টাকা আদায় করা হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো ক্রেতা কিছু বলতে পারেনি। গত কোরবানি ঈদের আগের হাটগুলোতে পশু পালনকারীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে হাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকা হিসাবে। তেমনই খুলনার এক ব্যক্তি আঠারো মাইল গরুর হাট থেকে কোরবানি দেয়ার জন্য গরু কিনেছিলেন ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে। সেখানে হাসিলের জন্য প্রথমে ২৭০০ টাকা চাওয়া হয় পরবর্তীতে সেটা ২ হাজার টাকায় হাসিল করা হয়।

মাংস বিক্রেতা ও পেশাদার গরু ব্যবসায়ীদের জন্য গরুপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকা নেয়া হয়। কয়েক জন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, হাটে যদি হাসিলের চার্ট টানানো থাকতো তাহলে আমাদের কোনো বিভ্রান্তি থাকতো না। খর্ণিয়া হাটে গেলে সোলাইমান নামের একজন মাংস বিক্রেতা বলেন, তিনি প্রতি হাটে গরু ক্রয় করেন তারপরও প্রতিটি গরুর জন্য ৭০০ টাকা করে হাসিলের টাকা দিয়েছেন।

আন্দুলিয়া গ্রামের কুদ্দুস নামের একজন শাহ্‌পুর পশু হাট থেকে ছাগল ক্রয় করেন ১৩ হাজার টাকা দিয়ে। তার কাছ থেকে হাসিলের টাকা আদায় করা হয়েছে ৫০০ টাকা। যেটা হাজার প্রতি প্রায় ৩৯ টাকা। ছাতিয়ানি গ্রামের মান্নান ৮০ হাজার টাকার গরুতে হাসিল করেছেন ১৩০০ টাকা যেটা হাজারে ১৬ টাকারও বেশি। হাট-বাজার সংশ্লিষ্ট তৌসিলের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে অনুমোদিত টোল চার্ট দেয়া হয়নি বলে জানান। এমনকি আদায়ের রেট সম্বন্ধে জানতে চাইলে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ (১৪৩১ সন) সালে খর্ণিয়া গরুহাট ৭৫ লাখ টাকা ও আঠারো মাইল গরু হাট ৭০ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়। এ বছর খাস আদায়ে প্রথম মাসে খর্ণিয়া হাট ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮১৫ টাকা, আঠারো মাইল হাট ৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৫ টাকা ট্রেজারির মাধ্যমে জমা দেয়া হয়েছে। সেটা নিয়েও রয়েছে নানান গুজ্ঞন। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, ডুমুরিয়ায় পূর্বের কোনো টোল চার্ট তৈরি করা নেই। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন