সীমান্তে ‘পুশইন’ ঠেকাতে

খাগড়াছড়িতে বিজিবি’র নতুন অপারেশনাল বেইস স্থাপন

ফন্ট সাইজ:

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে খাগড়াছড়িতে দু’টি অস্থায়ী অপারেশনাল বেইস (টিওবি) স্থাপন করেছে খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩২ বিজিবি)। রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পানছড়ি উপজেলার মনোরমেরটিলা ও রিন্টুরজুম এলাকায় এ দু’টি অপারেশনাল বেইস স্থাপন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রহরা জোরদার, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ এবং পার্বত্য অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা মোকাবিলায় বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে। নতুন এই অপারেশনাল বেইস স্থাপনের ফলে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি পাবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন সম্ভব হবে। এ ছাড়া, বনজ সম্পদ সংরক্ষণে অবৈধভাবে কাঠ, বাঁশ ও অন্যান্য সম্পদ পাচার প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই বেইসগুলো। একইসঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিজিবি আরও জানায়, অপারেশনাল বেইস স্থাপনের আগে স্থানীয় কারবারি, হেডম্যান, জমির মালিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে এবং স্থানীয় ভূমি অফিসের মাধ্যমে জমি বন্দোবস্তের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে এ বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকতে এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩২ বিজিবি)।

খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়নের (৩২ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এস এম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে ‘পুশইন’ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নজরদারি জোরদার করতে মনোরমেরটিলা ও রিন্টুরজুম এলাকায় দু’টি অপারেশনাল বেইস স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে মাদক চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র পাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি’র কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন