একসময় ছিলেন ‘পার্ট-টাইম’ ফুটবলার। ১৫ বছর বয়সে শারীরিক গড়ন ছোটখাটো বলে বয়সভিত্তিক দল সেল্টিক থেকে পান চরম প্রত্যাখ্যান। সেই অ্যান্ডি রবার্টসনই এখন বিশ্বমঞ্চে স্কটল্যান্ড দলের অধিনায়ক। প্রতিকূল স্রোত ডিঙিয়ে শূন্য থেকে শিখরে ওঠার এক জীবন্ত রূপকথা তিনি। লিভারপুলের হয়ে সম্ভাব্য সব ঘরোয়া ও ইউরোপিয়ান ক্লাব শিরোপাজয়ী রবার্টসন এবার সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘোচানোর মিশনে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা স্কটল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
বস্টনে রোববার হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘সি’ গ্রুপে পথচলা শুরু করবে স্কটিশরা। তবে অধিনায়ক রবার্টসনের চোখ এখনই আটকে আছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। রবার্টসনের ভাষায়, এই ম্যাচটি তার কাছে এক পরম ‘স্বপ্ন’। বিশ্বকাপের আঙিনায় পা রাখার আগে নিজের ফেলে আসা কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে রবার্টসন ফিফাকে বলেন, ‘এইরকম মুহূর্তে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি কোথা থেকে এসেছেন এবং এই মুহূর্তগুলো পাওয়ার জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল শুধুই দেশের হয়ে খেলা। কখনো অধিনায়ক হওয়ার কথা ভাবিনি।’
সেল্টিক থেকে বাদ পড়ার সেই ধাক্কাই তাকে মানসিকভাবে শক্ত করেছে স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘পেশাদার ফুটবলার হওয়ার পথটা সহজ নয়। চলার পথের বাধা-বিপত্তিই একজন মানুষকে সহনশীল করে তোলে।’
গত নভেম্বরে হ্যাম্পডেন পার্কে ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে হারিয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে স্টিভ ক্লার্কের দল। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি, মরক্কো ও ব্রাজিল। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষবার মুখোমুখি হয়। ম্যাচটিতে ২-১ গোলে হারে তারা। তখন রবার্টসন মাত্র ৪ বছরের শিশু।
২৫শে জুন মায়ামিতে কার্লো আনচেলোত্তির তারকাখচিত ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে অতীত ইতিহাস নিয়ে একদমই ভাবছেন না স্কটিশ অধিনায়ক। রবার্টসন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা অতীতের মানুষদের শ্রদ্ধা করি। তবে নিজেদের ইতিহাসটা আমাদেরই লিখতে হবে। অতীতের ফলাফলের কোনো প্রভাব এই ম্যাচে থাকবে না। ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা যেকোনো ফুটবলারের স্বপ্ন। বিশ্বকাপ আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।’
আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি স্কটল্যান্ড। এবার রবার্টসনের হাত ধরে সেই অধরা ইতিহাস গড়তে চায় তারা। সাবেক লিভারপুল তারকা বলেন, ‘গ্রুপ পর্ব পার হয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ যাওয়া আমাদের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। নিজেদের দিনে আমরা যেকোনো দলের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ।’
