প্রথম পরীক্ষায় কি ‘পাস’ নম্বর পেলেন ডুলি

প্রথম পরীক্ষায় কি ‘পাস’ নম্বর পেলেন ডুলি

ফন্ট সাইজ:

চার বছরের অধিক সময় বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে ছিলেন স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। তার সময়ে ডিফেন্স আগে ক্যাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর খেলা খেলতো বাংলাদেশ ফুটবল দল। তবে নতুন কোচ থমাস ডুলির কৌশল আবার একেবারে ভিন্ন। সান মারিনোর বিপক্ষে তার একাদশ দেখেই বোঝা গিয়েছিল, রক্ষণভাগ সামলে সমতা খোঁজার চিরাচরিত এশিয়ান মানসিকতা নিয়ে তিনি দল মাঠে নামাননি। গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পোস্টের নিচে রেখে দলকে দাঁড় করিয়েছিলেন ৪-৩-৩ ফরমেশনে, যার মূল লক্ষ্যই আক্রমণ।

এদিন থমাস ডুলি মাঝমাঠের ভরসা রেখেছিলেন অভিজ্ঞ জামাল ভূঁইয়ার ওপর। জামাল চেষ্টা করেছেন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণভাগে থাকা রফিকুল, মোরসালিন ও ফাহিমকে সহায়তা করতে। বাংলাদেশ এদিন স্রেফ কোনো কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে ম্যাচ জেতেনি; বরং বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়েই রেখেছে। পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখা এবং ২৪৪টি সফল পাস খেলা সেই দক্ষতারই প্রমাণ।

ডুলির অধীনে প্রথম বারের মতো ইউরোপের কোনো দেশকে প্রথমবার হারিয়েছে বাংলাদেশ। দলটি ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের একেবারে তলানির হলেও তাদের নিয়ে ভয়ে ছিলেন আমেরিকার হয়ে দু’টি বিশ্বকাপ খেলা ডুলি। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘সান মারিনো নিয়মিত ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২২, ৪২, ৩৭, ৭৬ এবং ১২০ নম্বর দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলে। তাদের পারফরম্যান্স বেশ ভালো। দলটি শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী। তারা বাতাসে (এরিয়াল বল) ভালো খেলে এবং তাদের বডি কন্টাক্ট (শারীরিক লড়াই) চমৎকার।’ ফুটবলে একটা কথা প্রচলিত আছে ইউরোপীয় দলগুলোর সঙ্গে এশিয়ার দলগুলো ফিজিক্যালিটি বা শারীরিক শক্তিতে পেরে ওঠে না।

বিশেষ করে সেট-পিস কিংবা শূন্যে ভেসে আসা বলের লড়াইয়ে তারা সবসময়ই লম্বা গড়ন আর শারীরিক শক্তির কারণে এগিয়ে থাকে। কিন্তু এদিন সান মারিনোকে তাদের নিজেদের এ সেরা অস্ত্রেই কুপোকাত করেছে বাংলাদেশ। যেখানে নায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ম্যাচের ১৯ মিনিটে যখন বাংলাদেশ প্রথম লিড নেয়, সেটি ছিল সেট-পিসের এক দারুণ ফসল। ডুলির দল পুরো ম্যাচে কর্নার পেয়েছিল মাত্র দু’টি, কিন্তু সেই সীমিত সুযোগেরই সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন তপু। ৮৬ মিনিটে ম্যাচ ১-১ গোলে সমতা, ড্রয়ের দিকে যাচ্ছিল ম্যাচ, তখনই আবার ত্রাতা বনে যান তপু, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে তপুর নেয়া নিখুঁত হেডটি খুঁজে নেয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। সবমিলিয়ে বলা যায়, বাতাসে ভেসে আসা বলে ইউরোপীয় ডিফেন্ডারদের দারুণভাবে পরাস্ত করেছে বাংলাদেশ।

অবশ্য প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে জিয়াকোপেত্তির গোলে সান মারিনো যখন সমতায় ফেরে, তাতে দায় ছিল জোড়া গোল করা ডিফেন্ডার তপু বর্মণের। বিরতির পর কোচ ডুলির পরিকল্পনায় সেই দুশ্চিন্তা আর থাকেনি। দ্বিতীয়ার্ধে একাদশে তিনি ৬টি পরিবর্তন আনেন। বদলি নামা খেলোয়াড়েরা মাঠে হাই প্রেসিং ফুটবলটা সচল রাখেন, যার ফলে সান মারিনোর ক্লান্ত রক্ষণভাগ ক্রমাগত ভুল করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ রক্ষণভাগও এই সময় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল- ৩৪ বার বলের পুনর্দখল নেয়া, ১২টি সফল ট্যাকল ও ২০টি ‘ক্লিয়ারেন্স’ প্রমাণ করে যে লিড ধরে রাখতে কতোটা মরিয়া ছিলেন হামজারা। ম্যাচ শেষে সেটা স্বীকার করে ডুলি বলেন, ‘ম্যাচে আপনি কীভাবে শুরু করছেন সেটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ৫ থেকে ১০ মিনিট আমরা কিছুটা ভুগেছি, তবে ভিন্ন দেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি আর ভিন্ন শৈলীর ফুটবলে খেলতে গেলে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক।

প্রথমার্ধের ১০-১৫ মিনিটে আমরা নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে শুরু করি, গতি ব্যবহার এবং কিছু সুযোগ তৈরি করি। সামগ্রিকভাবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তুষ্ট। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা আরও কিছুটা ভালো ফুটবল খেলেছি।’ সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে পুরো দল নিয়ে পর্যাপ্ত অনুশীলন করানোর সুযোগ পাননি ডুলি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রক্ষণ থেকে খেলার সময় যারা সবচেয়ে বেশি বল হারিয়েছে, তারা মূলত গত দুইদিনে দলে যোগ দেয়া খেলোয়াড়। তাই আমরা আগে কী আলোচনা করেছি বা কীভাবে অনুশীলন করেছি, সে সম্পর্কে তাদের পরিষ্কার ধারণা ছিল না। আমি দলের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম, যদিও আমরা একসঙ্গে মাত্র কয়েকদিন কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।’

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন