বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন ঘিরে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হতে যাচ্ছে আজ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিসিবি’র নির্বাচন। সরকার পতনের পর বিসিবি পাচ্ছে ২ বছরের মধ্যে তৃতীয় সভাপতি। নাজমুল হাসান পাপন দেশ ছাড়ার পর বিসিবি’র অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। এরপর ৮ মাসেই তাকে বিদায় দেয়া হয় নানান বিতর্কিত ঘটনায়। এরপর সভাপতি হন আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার অধীনে বিসিবি একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে বুলবুলের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ড নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক। দেশের সরকার পরিবর্তনের পর তার বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়।
গঠিত হয় দেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি। যাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল ৩ মাসের মধ্যেই একটি নির্বাচন আয়োজন করা। তবে তার আগেই আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যদিও এই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। এরই মধ্যে তিন ক্যাটাগরিতে বেশির ভাগ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে। শুধুমাত্র জেলা ও বিভাগীয় এবং ক্লাব ক্যাটাগরিতে নির্বাচন হবে আজ। ক্লাব ক্যাটাগরির ৩৯ জন এবং জেলা ও বিভাগ থেকে ৩ জন ভোটার ই-ব্যালট দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বড় খবর হলো, সরাসরি ভোটের আগেই ২৩ জন পরিচালকের মধ্যে সিংহভাগই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এখন কেবল খুলনা ও বরিশাল বিভাগে মূল লড়াই হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যার তীব্রতা বেশ প্রবল হতে যাচ্ছে।
খুলনায় ২ টি পদের জন্য লড়াই করছেন শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম ও আবদুছ ছালাম। অন্যদিকে বরিশালের ১ টি পদের জন্য মিজানুর রহমান ও মুনতাসির আলম চৌধুরী মুখোমুখি হচ্ছেন। ক্লাব ক্যাটাগরিতে প্যানেল ছাড়া ওপেন ইলেকশনের আহ্বান জানিয়েছেন তামিম। প্রিমিয়ার লীগের এই ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন নিয়ে মাঠের উত্তেজনার মধ্যেই ভোটারদের মাঝে সমঝোতার ফিসফাসও শোনা যাচ্ছে, যা নিয়ে কানাঘুষা চলছে সর্বত্র। ক্লাব ক্যাটাগরির ১২ টি পরিচালক পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। তবে ভেতরের খবর হলো, সমঝোতার ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ৮ থেকে ১০ জন প্রার্থীর পরিচালক হওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে মিরপুর স্টেডিয়ামে অবস্থিত বিসিবি কার্যালয়কে তিনটি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। জোন-১ এ শুধু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তালিকাভুক্ত ব্যক্তিবর্গ এবং ভোটাররা প্রবেশ করতে পারবেন।
প্রবেশের ক্ষেত্রে বিসিবি কর্তৃক প্রদানকৃত অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। জোন-২ থেকে ভোটাররা তাদের নিজ নিজ কাউন্সিলর পরিচয়পত্র এবং অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। এখানে ভোটার এবং তাদের মনোনীত ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্যান্যদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া জোন-৩ এ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অবস্থান করবেন। নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী ফলাফল এবং অন্যান্য তথ্যাদি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের জোন তিন-এ এসে অবহিত করা হবে।
