বিশ্বকাপে জুয়াড়িদের থাবা, ফিক্সিংয়ের তদন্তে দুই ফুটবলার!

বিশ্বকাপে জুয়াড়িদের থাবা, ফিক্সিংয়ের তদন্তে দুই ফুটবলার!

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগে বোমা ফাটালো বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া গণমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ আট মাসের এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। এবারের বিশ্বকাপে খেলবেন এমন দুজন ফুটবলারের স্পট ফিক্সিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে গণমাধ্যমটি। গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য ওঠে এসেছে। ইন্টিগ্রিটি ইউনিট তথ্য প্রমাণসহ তাদের বিরুদ্ধে দুই ফুটবলারের ফেডারেশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে অভিযুক্ত দুই ফুটবলারের নাম ও দেশের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হয়নি। তবে তারা পুরো ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব না ফেলে, ম্যাচের ভেতরের ছোট ছোট নির্দিষ্ট ঘটনা বা ‘স্পট ফিক্সিং’ করেছিলেন জুয়াড়িদের সাথে চুক্তি করে।


মৌসুমের শুরুতে একজন ফুটবলার তার ঘরোয়া লীগের ম্যাচে ইচ্ছে করে একটি হলুদ কার্ড দেখেন। জুয়াড়িদের সাথে চুক্তি ছিল, যেন তিনি নির্দিষ্ট সময়ে কার্ড দেখে নিষিদ্ধ হন। এই নিষেধাজ্ঞা ডার্বি বা বড় ম্যাচের আগেই শেষ হয়ে যাবে। ফলে তিনি বড় ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন। যদিও ম্যাচ শুরুর আগেই জুয়াড়িদের বাজারে এই গোপন পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। ওই খেলোয়াড়ের কার্ড দেখার ওপর কোটি কোটি টাকার বাজি ধরা হলে আন্তর্জাতিক মনিটরিং সিস্টেমে রেড সিগন্যাল জ্বলে ওঠে। গত মাসে আরেকটি লীগ ম্যাচে মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে পরপর ৩টি ফাউল করে ইচ্ছে করে প্রথমার্ধেই হলুদ কার্ড আদায় করে নেন আরেক খেলোয়াড়। মাঠের এই কাণ্ড ঘটার আগেই দুটি আন্তর্জাতিক জুয়াড়ি সংস্থা (বুকমেকার) ইমেইলের মাধ্যমে প্রশাসনকে জানিয়েছিল যে, এই খেলোয়াড়ের প্রথমার্ধে কার্ড দেখার ওপর অস্বাভাবিক বাজি ধরা হচ্ছে।


বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় এমন নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কঠোর বার্তা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ফিক্সিং বা ম্যাচ ম্যানিপুলেশনের বিরুদ্ধে ফিফার অবস্থান সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’। যেকোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য সম্পূর্ণ গোপনে জানাতে ফিফার একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত অনলাইন ‘হুইসেলব্লোয়িং সিস্টেম’ চালু রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ফিক্সিং বিশেষজ্ঞ ক্রিস ক্রোনো রমুসেন এক ভয়ংকর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করতে পারেন একটা হলুদ কার্ডে তো ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব পড়ে না, এতে ক্ষতি কী! কিন্তু এটাই জুয়াড়িদের পাতা মরণফাঁদের শুরু। প্রথমবার একটা হলুদ কার্ড দিয়ে শুরু হলেও, পরবর্তী সময়ে ওই খেলোয়াড়কে ব্লাকমেইল করে জুয়াড়িরা। এরপর কর্নার দেয়া, পেনাল্টি দেয়া কিংবা ইচ্ছে করে গোল হজম করার মতো বড় অপরাধে বাধ্য করা হয়।’ খেলাধুলায় ফিক্সিং শুরু হয় আজ থেকে প্রায় ১৭০০ বছর আগে, ২৬৭ খ্রিস্টাব্দে! ইচ্ছে করে তিনবার হেরে যাওয়ার জন্য মিশরের এক কিশোর কুস্তিগীরকে একটি গাধা কেনার সমপরিমাণ অর্থ (৩,৮০০ দ্রাকমা) ঘুষ দেয়া হয়। তবে একুশ শতকে এসে অনলাইন জুয়ার ব্যাপক প্রসারের কারণে এই মহামারি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। টেলিভিশন স্ক্রিন থেকে শুরু করে খেলার মাঠ; সবখানেই এখন অনলাইন বেটিং সাইটের ঝকঝকে বিজ্ঞাপন। বড় বড় গণমাধ্যমগুলোও এখন জুয়াড়িদের স্পন্সরশিপ নিচ্ছে। বিশ্বের একটি শীর্ষ ক্রীড়া সংস্থার সাবেক প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাথলেটিককে বলেন, ‘আমি মোটেও অবাক নই। আজকের যুগে আমাদের খেলোয়াড়েরা আর কেবল খেলোয়াড় বা ক্রীড়াবিদ নন; তারা জুয়া শিল্পের এক একটি আর্থিক হাতিয়ার মাত্র!’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন