ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, গত এক মাসে সড়ক পরিবহন আইন অমান্য করার দায়ে মোট ৩৮ হাজার ২৮৪ টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭২ টি মামলা হয়েছে এআই ভিত্তিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে। আর এসব মামলায় মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানান তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা আদালত কর্তৃক মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন সংক্রান্ত ৩৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। যার মধ্যে একজনকে কারাদণ্ডসহ অন্যদের ক্ষেত্রে সর্বমোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মে মাসে বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ৫ হাজার ২০৯টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। একই সঙ্গে ৫ হাজার ৯৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদি কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং সর্বমোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাফিকের আইন সবার জন্যই সমান। প্রধানমন্ত্রী নিজে যেখানে ট্রাফিক আইন মেনে যাতায়াত করেন, সেখানে অন্যদের ব্যাপারে তো অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের যারা পুলিশ সদস্য আমরা তাদেরকেও কিন্তু ক্লিয়ার মেসেজ দিয়ে দিয়েছি। আমাদের পুলিশ সদস্যের কেউ যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করে, আইন অনুযায়ী আমরা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। সরকারি এবং বেসরকারি যানবাহন হোক ট্রাফিক আইন যদি কেউ লঙ্ঘন করেন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, হচ্ছেও।
তিনি বলেন, আমরা নতুন করে এআই প্রযুক্তি ইন্ট্রোডিউস করেছি। বর্তমানে ৫৭টি পয়েন্টে মোট ৭০টি এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আমরা ঢাকা শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ করছি। বেশিরভাগ মানুষই এখন ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন। পর্যায়ক্রমে পুরো শহরকেই এই এআই ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
তিনি বলেন, এখানে অটোমেটিক্যালি আমাদের যে প্রোগ্রামটা করে দেয়া হয়েছে, এই প্রোগ্রামের বাইরে যে গাড়িগুলো যাবে বা ক্রস করবে, বাম লেনকে ব্লক করবে, অথবা আবার যে লেন সেটাকে ক্রস করবে, আইন অমান্য করবে সেই গাড়িগুলো অটোমেটিক্যালি আমাদের সিস্টেমে চলে আসছে। যাচাই-বাছাই করে আমরা আরও নিশ্চিত হচ্ছি যে এই অপরাধটি সে করেছে। এটা আমরা শতভাগ নিশ্চিত হবার পর মামলা হচ্ছে। তবে এই এআই মামলা নিয়ে অনেকেই আবার প্রতারণা করছে, সেই বিষয়েও সলেকে সজাগ থাকার অনুরোধ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের সাইবার টিম কাজ করছে। একই সঙ্গে বিআরটিএর সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। আমরা বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছি। আশা করি এই প্রতারকদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো। একই সঙ্গে এই এআই মামলার কপি যেন ডাক যোগে পাঠানো যায় সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
