বিধানসভা নির্বাচনে ঘিরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাজ্যটিতে ইতিমধ্যে দুই দফায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে রাজ্যের ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের ১৫টি বুথে পুনর্র্নিবাচন চলছে। আগের দফার ভোটে অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগে দেশটির নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই ভোটগ্রহণ চলছে।
কর্মকর্তাদের বরাতে এনডিটিভি অনলাইন বলছে, ভোট চলাকালীন রাজ্যের চব্বিশ পরগণায় বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলার ফালতায় বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে সংঘর্ষ শুরু হয়। তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিজেপির সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা তাদের ভোট দিতে দিচ্ছে না। অন্যদিকে তৃণমূলের কর্মীদের অভিযোগ, বিজেপি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াতে বাঁধা দিচ্ছে। পুলিশ সংঘাত দমাতে দুই পক্ষের সমর্থকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে একজন নারী বাসিন্দা বলেন, তৃণমূলের ইসরাফিল চৌকিদার আমাদের হুমকি দিয়েছে যে এসব লোক জিতলে আমাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেবে।
আরেক নারী দাবি করেছেন, তিনি তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন, কিন্তু এরপরেও এই দলের লোকেরা তাকে টার্গেট করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আমরা তৃণমূলে ভোট দিলেও তারা আমাদের আক্রমণ করেছে। আমরা চাই তাদের গ্রেপ্তার করা হোক।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল দুই দফার ভোটগ্রহণ শেষে বুথ ফেরত জরিপের ফলাফল আসতে শুরু করে। বেশিরভাগ জরিপেই বলা হয়, এবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির দখলে যাচ্ছে।
সর্বশেষ, চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস জানায়, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে। এতে তারা ১৯২টি আসনে জয়লাভ করতে পারে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল-কংগ্রেস ৩৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে। এ নিয়ে তারা জিততে পারে ১০০টি আসন। এ ছাড়া অন্যান্য দলগুলো দুইটি করে আসন পেতে পারে।
তবে এসব সমীক্ষার ফল মানতে নারাজ পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি অভিযোগ করেছেন যে বিজেপি টাকা দিয়ে সমীক্ষার ফল কিনেছে। এই জরিপ ঘিরেও দুই পক্ষের মধ্যে চলছে কথার যুদ্ধ। আগামী ৪ মে এই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে হিন্দু তাদের লাইভ প্রতিবেদনে বলেছে, নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত ১৬৫ জন ভোট গণনা পর্যবেক্ষক ও ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে।
