আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস আজ

আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস আজ

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস আজ। প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শেষ বুধবার বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালন করা হয়ে থাকে। শব্দদূষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমেরিকান ‘সেন্টার ফর হিয়ারিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ ও ‘লিদিন ফর দ্য হার্ড অব হেয়ারিং’ ১৯৯৬ সাল থেকে এপ্রিল মাসের শেষ বুধবার দিবসটি পালন করে আসছে। যদিও বাংলাদেশে ২০০৩ সাল থেকে বেসরকারিভাবে এবং ২০১৫ সাল থেকে সরকারিভাবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর ২৯শে এপ্রিল দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

শব্দদূষণের উৎস, শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিকসমূহ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা, শব্দদূষণের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিষয়ে প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা এবং সকল স্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই দিবসটি পালন করা হলে দিবসটি পালনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে বলে অংশীজনরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’ এর পক্ষ থেকে রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, আবাসিক সোসাইটি, পরিবেশবাদী ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। সারা দেশে ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

একইসঙ্গে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটওভার ব্রিজে ব্যানার ও দৃশ্যমান স্থানে ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক (বাংলা ও ইংরেজি) পত্রিকায় রঙিন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

যেসব কারণে শব্দদূষণ বেড়ে চলেছে তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো গাড়ির হর্ন ও ইঞ্জিনের শব্দ, বিভিন্ন নির্মাণ কাজের শব্দ, মেশিনে ইট ও পাথর ভাঙার শব্দ, কলকারখানার মেশিন হতে নির্গত শব্দ, গ্রিলের দোকানে ও ওয়ার্কশপের শব্দ, শিল্প কলকারখানা/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান/বাণিজ্যিক ভবন হাসপাতাল/ক্লিনিকে ব্যবহৃত জেনারেটরের শব্দ, নির্বিচারে লাউড স্পিকারের শব্দ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মাইক বা লাউড স্পিকারের শব্দ ইত্যাদি শব্দদূষণের অন্যতম কারণ বা উৎস। পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’ পক্ষ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে পরিচালিত জরিপ প্রতিবেদনে ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগের শব্দদূষণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। যার মধ্যে গাড়ির হর্নকে শ্রবণ শক্তি নষ্ট হওয়ার জন্য অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।



ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন