২০২২ সালে জঘন্য এক ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পরে যেখানে দেখা যায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে নোংরা ঘরের ভেতর গলায় লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং তিনি আট সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ‘শিকলবন্দী নারী’র (চেইন্ড ওম্যান) এই চরম বিতর্কিত ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন প্রথমে বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক বিয়ে’ বলে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করলেও চীনজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার চীনের প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে অসহায় ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীদের জোরপূর্বক বিয়ে এবং পাচারের হাত থেকে রক্ষা করতে এক নতুন ধরনের গোপন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন দেশটির একদল নারী আন্দোলনকর্মী।
মূলত শহরের সচ্ছল নারীরা গ্রামীণ অঞ্চলের ভাগ্যাহত নারীদের উদ্ধারে নিভৃতে কাজ শুরু করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। সম্প্রতি শানসি প্রদেশে এক প্রতিবন্ধী নারীকে দুই ভাইয়ের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার খবর পেয়ে শাওচাও (ছদ্মনাম) নামের এক কর্মী সেখানে ছুটে যান। আবার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গুয়াংশি অঞ্চলের এক পাহাড়ি গ্রামে আরেক প্রতিবন্ধী নারীর সন্ধান মেলে, যার নয়টি সন্তান রয়েছে। আইনি গবেষকদের মতে, চীনের আইনে নারী কেনাবেচা নিষিদ্ধ হলেও অসহায় নারীদের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে বাধ্য করার এই নির্মমতাকে আইনি দুর্বলতার কারণে এখনো রুখে দেয়া যাচ্ছে না।
রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পাচারের শিকার হওয়া নারীদের ২০ ভাগই ছিলেন কোনো না কোনোভাবে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী। এদের অনেককেই আইনি দুর্বলতার সুযোগে গ্রামীণ এলাকায় জোরপূর্বক বিয়ে এবং সন্তান জন্মদানে বাধ্য করা হচ্ছে। যদিও শি জিনপিং সরকার দাবি করেছে যে বিগত বছরগুলোতে নারী পাচারের হার প্রায় ৮০ ভাগ কমে এসেছে, তবে আন্দোলনকর্মীদের মতে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকার অনলাইনে আদালতের রায় প্রকাশের সংখ্যা কমিয়ে দেয়ায় এবং এই সংক্রান্ত যেকোনো প্রতিবাদী পোস্ট বা বিশ্লেষণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দ্রুত সেন্সর বা মুছে দেয়ায় প্রকৃত তথ্য ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে।
এই কঠোর দমনপীড়নের কারণে প্রশাসনের ওপর ভরসা হারিয়ে এখন শাওচাওয়ের মতো কর্মীরা সম্পূর্ণ গোপনে ও ছদ্মনামে দুর্গম গ্রামগুলোতে তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং নিজেরা আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেছেন, যেন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এই অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানো যায়।
