পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ ২০ বছর পরে কংগ্রেস বামদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দিল্লিতে 'দোস্তি' থাকলেও বিগত একদশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যে তারা মমতার বিরোধীতা করে চলেছে। এবারও নির্বাচনী প্রচারে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অংশীদার তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন , মেরুকরণ ও দুর্নীতি রাজ্যে বিজেপির প্রবেশের পথ তৈরি করে দিয়েছে।
মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দিনাজপুরের প্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেকে একের পর এক ইস্যুতে আক্রমণ শানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। আরজি কর থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান, বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে আক্রমণ করেছেন তিনি। তবে পশ্চিমবঙ্গে পা রেখে দুই কংগ্রেস সাংসদের দাবি, তারা রাজ্যে সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে এবার। সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে খাতা খুলতে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার কংগ্রেস বেশ কিছু আসনে জয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।
শুক্রবারই কলকাতায় আসেন রাজ্যসভার দুই সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি এবং অখিলেশ প্রসাদ। পশ্চিমবঙ্গে পা রেখে দুই কংগ্রেস সাংসদের দাবি, তারা রাজ্যে সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে এবার। কংগ্রেসের দুই রাজ্যসভার সাংসদ দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার তৃতীয়শক্তি হিসেবে উদয় হবে কংগ্রেসের।
গত বিধানসভায় বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঝুলি শূন্য হয়েছিল কংগ্রেসের। আর এবার খাতা খুলতে মরিয়া হয়ে ঝাঁপিয়েছে কংগ্রেস। এর জন্য তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মৌসম বেনজির নূরকে এনে প্রার্থী করছে কংগ্রেস। তিন দশক পরে রাজ্য রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে অধীর রঞ্জনা চৌধুরীকৈ।
নিজের এলাকা বহরমপুরে প্রার্থী তিনি। এই আবহে কংগ্রেস সাংসদদের বক্তব্য, 'এখানে দুই বড় দলের দিকে মূল নজর থাকলেও, কংগ্রেস তৃতীয় শক্তি হিসাবে উঠে এসেছে। কংগ্রেসই আগামিদিনে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। কংগ্রেস ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে কোনও সরকার গঠন হবে না।' এই বক্তব্য নিয়ে পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মতাদর্শগত ভাবে বিজেপিকে সরকার গঠনে কংগ্রেসের সাহায্য করর প্রশ্ন ওঠে না। বামেরা সরকার গঠনের মতো জায়গায় পৌঁছতে পারবে বলে নিজেরাই মনে করছে না। এই অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নীতির বিরোধিতা করে কংগ্রেস সেই মমতার সরকারকেই ফেরানোর বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
