যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহান্তে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে অনেক সময় ব্যয় করেছেন। সম্ভবত পোপ লিও চতুর্দশের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়। ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ নেতা পোপ লিও চতুর্দশ ইঙ্গিত করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পেছনে ‘সর্বশক্তিমান হওয়ার এক বিভ্রম’ কাজ করছে। সাধারণত বিশ্বনেতাদের এত সরাসরি সমালোচনা না করলেও, পোপ বলেন, ‘নিজস্ব অহং ও অর্থের পূজা বন্ধ করুন! ক্ষমতার প্রদর্শন বন্ধ করুন! যুদ্ধ বন্ধ করুন! প্রকৃত শক্তি হলো জীবনের সেবা করা।’
তার বক্তব্যে ডনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু ইঙ্গিতটি ছিল তার দিকেই।
এগুলো ট্রাম্পের জন্য ছিল অনেক বেশি। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পাল্টা জবাবে বলেন, ‘পোপ লিও অপরাধের ক্ষেত্রে দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভয়াবহ। আমি এমন পোপ চাই না, যিনি মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ঠিক আছে।’
এর কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প নিজেকে যিশুর মতো দেখানো একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাকে একজন মানুষকে সুস্থ করে তুলতে দেখা যায়। এই পদক্ষেপটি তার প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া পায়নি। স্বাভাবিকভাবেই তার সমালোচকরা পোপকে এভাবে আক্রমণ এবং নিজেকে যিশুর সঙ্গে তুলনা করাকে বিস্ময়কর বলে আখ্যা দেন। তবে এবার সমালোচকদের মধ্যে ছিলেন তার সমর্থকরাও।
ফক্স নিউজের পডকাস্টার ও রক্ষণশীল ভাষ্যকার রাইলি গেইনস বলেন, ‘তিনি কেন এমন পোস্ট করলেন, আমি বুঝতে পারছি না।’ ডেইলি ওয়্যারের ভাষ্যকার মেগান ব্যাশাম একে ‘চরম ধর্মদ্রোহিতা’ বলে অভিহিত করেন। সাবেক কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেইলর গ্রিন বলেন, আমি এর নিন্দা জানাই এবং এর বিরুদ্ধে প্রার্থনা করছি।
ট্রাম্প প্রশাসনের সব ক্যাথলিক সদস্য এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি। তার মধ্যে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (যিনি পরে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেন) এবং হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের নয়জন বিচারপতির মধ্যে ছয়জনই ক্যাথলিক। তাদের মধ্যে অনেকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে সমর্থন করেছেন।
জনমতের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং সম্ভবত সমালোচনার ভয় ট্রাম্পকে এমন কিছু করতে বাধ্য করে, যা তিনি প্রায় কখনোই করেন না। তাহলো- একটি পোস্ট মুছে ফেলা। ট্রুথ সোশ্যালে নিজের যিশু রূপের ছবিটি- যা তিনি পরে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, তিনি নাকি ছবিতে একজন ডাক্তারের মতো নিজেকে দেখাচ্ছিলেন, তা মুছে ফেলা হয়। তবে আমরা জানি, সামাজিক মাধ্যমের জগতে কিছুই পুরোপুরি মুছে যায় না। স্ক্রিনশটগুলো ছড়িয়ে পড়তেই থাকে, সঙ্গে থাকে সমালোচনাও, যা তার সমর্থকরাও শুনছেন।
এই সমালোচকদের একজন ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসন। তিনি এখন নিজের মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করেন। কার্লসন ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে ম্যাগা শিবিরের ভেতরের বিভাজনের অংশ। তিনি এবং পডকাস্টার ক্যান্ডেস ওউয়েন্স ট্রাম্পের তথাকথিত ‘ইসরাইল-প্রথম’ নীতির সমালোচক হয়ে উঠেছেন। তারা উভয়েই জায়নিস্ট ও খ্রিস্টান জায়নিস্ট এজেন্ডার সমালোচনা করেছেন।
সম্প্রতি কার্লসন যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইলে রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির সাক্ষাৎকার নেন। সেখানে তাকে তেল আবিবের সম্প্রসারণবাদী নীতির সমর্থক হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা শুধুমাত্র আমেরিকার স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে না।
ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবিটি নিয়ে কার্লসনের মন্তব্যও উল্লেখযোগ্য ছিল। অনলাইনে ঘুরে বেড়ানো মূল এআই ছবির সঙ্গে হোয়াইট হাউস শেয়ার করা ছবির তুলনা করে তিনি বলেন, আসল ছবিতে যিশুর মাথার ওপরে একটি আমেরিকান সৈনিকের মতো একটি অবয়ব ছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউসের সংস্করণে সেই অবয়বটি পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। কার্লসন বলেন, যিশুর মাথার ওপরে থাকা আমেরিকান সৈনিকটিকে বদলে দেয়া হয়েছে। এখন ভালো করে দেখলে মনে হয় সেটি একটি দানব-নরকের ডানাওয়ালা কোনো প্রাণী। ফলে এটি এমন একটি ছবি থেকে- যা আরোগ্য ও আলোর ইঙ্গিত দেয় একটি এমন দৃশ্যে পরিণত হয়েছে, যেন ‘রেভেলেশন’ বইয়ের কোনো দৃশ্য। কার্লসন আরও বলেন, ট্রাম্পকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কেন ছবিটি পরিবর্তন করা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করেননি। এই ধরনের ইঙ্গিতগুলো যুক্তিবাদী মানুষের কাছে অদ্ভুত মনে হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের সমর্থকরা, বিশেষ করে কার্লসনের অনুসারীরা গোপন অর্থ ও ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণীর গল্পের সঙ্গে পরিচিত।
এই ক্ষেত্রে ‘বুক অব রেভেলেশন’-এর উল্লেখ আসলে খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী যিশুর আগমনের আগে ‘অ্যান্টিক্রাইস্ট’-এর আবির্ভাবের ইঙ্গিত দেয়। এটি দেখায়, যুক্তরাষ্ট্রের চরম ডানপন্থার একটি অংশে কীভাবে সর্বনাশা বা প্রলয়-সংক্রান্ত বয়ান গড়ে উঠছে।
আমাদের বাকিদের জন্যও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক, বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ। কিন্তু যদি কেউ লক্ষণ বা পূর্বাভাস খোঁজেন, তাহলে গত কয়েক সপ্তাহে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে মৌমাছির ঝাঁক, হরমুজ প্রণালির কাছে অস্বাভাবিক বৃষ্টি এবং তেল আবিবের আকাশে কাকের বিশাল সমাবেশ- এসব কিছু মানুষ ভবিষ্যদ্বাণীমূলক দৃষ্টিতে দেখছেন।
এই ব্যাখ্যাগুলো প্রায়ই ‘বুক অব রেভেলেশন’-এর চিত্রকল্প থেকে নেয়া। যেখানে বলা হয়েছে, পাখিরা ‘ঈশ্বরের মহান ভোজে’ অংশ নিতে জড়ো হবে।
(লেখক একজন আইনজীবী। তিনি সাংবিধানিক আইন ও রাজনৈতিক দর্শন পড়ান। অনলাইন ডন থেকে অনুবাদ)

<•>
১ মাস আগেWhat is the reason for the color of our skin, whether white, black, or brown?
The wise answer is that I am the creation of the Almighty Creator.
Similarly, Trump is also a creation of the Almighty, and the Almighty knows best why He has created him. It is not his fault that his behavior is awkward. It is the Almighty who knows best how to deal with His creations.
However, one thing we know for certain: there is an Almighty, and He has complete control over everything. The Almighty always tests His beloved creations, and patience is the only medicine to overcome these tests.