বালাগঞ্জে বেপরোয়া অপরাধ সিন্ডিকেট

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের বালাগঞ্জে কিশোর গ্যাংসহ অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বাড়ায় বিগত দিন থেকে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এখানকার অপরাধের মাত্রা। ‘গ্যাং কালচার’ বা সংঘবদ্ধ অপরাধ ভয়ঙ্কর রূপ পেয়েছে। বালাগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সদস্য ব্যবসায়ী ইমরান আহমদ রোমন অভিযোগ করে বলেন, তার ড্রাইভারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র। চাঁদা না দেয়ায় ড্রাইভারকে মারধরের ঘটনা উল্লেখ করে ১২ই এপ্রিল তিনি বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তাতে চাঁনপুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মুন্না, জলিল মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান, লাকী মিয়ার ছেলে সায়মন মিয়া ও বালাগঞ্জ বাজারস্থ আলামীনের ছেলে শান্ত মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন। ঘটনার বর্ণনায় এজাহারে বলা হয়েছে, ১০ই এপ্রিল বিকালে মুন্না, মিজান, সায়মন ও শান্ত রোমনের ট্রাকের ড্রাইভারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে গাড়ি চলাচল করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দিয়ে ড্রাইভারকে মারপিট করে মারাত্মক আহত করা হয়। এ সময় রোমনের ব্যবসায়িক অংশীদার আজিজুলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবি জোর করে কেড়ে নেয় মুন্নাসহ তার লোকজন। গত ১২ই মার্চ বালাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট এলাকার সুহেল নামের এক যুবককে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে চাঁদা দাবি করেন মুন্না চক্র। সুহেল অভিযোগ করে বলেন, দাবি করা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেয়ায় আমাকে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কায়দায় মেরে রক্তাক্ত জখম করা হয়। ওই ঘটনার সময়ে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আমাকে যেভাবে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে সবাই তা দেখেছেন। কিন্তু এরপরও ভয়ে মামলা করার সাহস পাইনি। সম্প্রতি বালাগঞ্জ উপজেলা সদরস্থ পশ্চিম নবীনগরে একটি ভাঙ্গাড়ি দোকানের মালিকের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনায় ওই দোকানের মালিক অভিযোগ করে বলেন, টাকা দিতে অপারগতা দেখালে সন্ত্রাসী মুন্না ও তার লোকজন আমাকে মারধর করে। বালাগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় তারা মাদক বিক্রি, জুয়া, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা স্থানীয় লোকজন অবহিত আছেন বলে থানা পুলিশের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৩ই এপ্রিল বালাগঞ্জ বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীর ছেলের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনায় ওই দোকানের মালিক বালাগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাখন মিয়ার স্ত্রী শিপা বেগম বাদী হয়ে ১৪ই এপ্রিল বালাগঞ্জে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে মুন্না, মিজান, সায়মন, চাঁনপুর গ্রামের পংকজ দাসের ছেলে অর্প দাস, হেলাল মিয়ার ছেলে কাজল আহমদ ও সায়েস্তা মিয়ার ছেলে জিসান মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ২২শে ফেব্রুয়ারি ছোটন হোসেন মুন্না নামের বালাগঞ্জ মাছ বাজারের ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই ব্যবসায়ী বলেন, চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয় মুন্নাসহ অপরাধী চক্রের সদস্যরা। গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি মুন্নার নেতৃত্বে অপরাধীরা বালাগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বিএনপি নেতা মাসুক মিয়ার মোটরসাইকেল দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাটি সবাই অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছে, মুন্না বিগত দিনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতো। তার চাচা বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। সে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বিগত দিনে বিভিন্ন সময়ে তার নামে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় একাধিকবার সে জেল ও সাজা খেটেছে। এসব ঘটনায় সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, দল বা আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ অন্যায়-অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটালে আমি বা আমার দল এর দায় নেবে না। বালাগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগের ঘটনাগুলো তদন্তাধীন আছে, অন্য ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধী চক্র বা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন