পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার রামভদ্রা গ্রামের এক প্রান্তে নিঃশব্দে বেঁচে আছে এক হৃদয়বিদারক গল্প, একটি পরিবারের অব্যক্ত কান্না, যাদের দিকে যেন ফিরেও তাকায় না কেউ। সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু মৃত আঃ গনি ফকিরের সন্তান আঃ রহমান ফকির। জীবনের নির্মম বাস্তবতা তাকে প্রতিনিয়ত আঘাত করে চলেছে। যেখানে একটি নিরাপদ আশ্রয় মানুষের ন্যূনতম অধিকার, সেখানে তার ঘর বলতে রয়েছে কয়েকটি নড়বড়ে বাঁশের খুঁটি আর ছেঁড়া নাড়ার ছাউনি। সামান্য বাতাসেই কেঁপে ওঠে সেটি, আর বৃষ্টি নামলেই তা পরিণত হয় পানিতে ডুবে থাকা এক অসহায় বসতিতে। বৃষ্টির পানি টপটপ করে ঝরে পড়ে ঘরের ভেতর। ভিজে যায় বিছানা, নষ্ট হয়ে যায় সামান্য খাবার, আর সেই সঙ্গে ভিজে যায় তার তিনটি সন্তানের ছোট ছোট স্বপ্ন। ভেজা মাটিতে কাঁদতে কাঁদতে রাত কাটায় নিষ্পাপ ছোট ছোট বাচ্চাগুলো। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তার ছোট্ট পরিবারটি যেন দারিদ্র্যের সঙ্গে এক নিরন্তর সংগ্রামে লিপ্ত। পেশায় একজন সুইপার দিনভর কঠোর পরিশ্রম করেও যা উপার্জন করেন, তা দিয়ে কোনোমতে টিকে থাকে সংসার। এর ওপর শারীরিক অসুস্থতা তাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারেন না, তবুও পরিবারের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন নিজেকে নিংড়ে দেন তিনি। বর্ষা এলেই তাদের জীবনে নেমে আসে দুঃসহ দুর্ভোগের কালো ছায়া। একফোঁটা বৃষ্টিই যেন আতঙ্কের অন্য নাম। রাতভর পানি ঢোকে ঘরে, শিশুর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাতাস, আর বাবা-মা অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকেন কিছুই করার থাকে না তাদের। এই অসহায় পিতার একটাই স্বপ্ন একটি নিরাপদ ঘর। একটি এমন আশ্রয়, যেখানে বৃষ্টির রাতে তার সন্তানদের আর ভিজতে হবে না, যেখানে তার স্ত্রী অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, আর যেখানে তিনি তার ক্লান্ত, অসুস্থ শরীর নিয়ে খুঁজে পাবেন একটু শান্তির ঠিকানা। রহমান ফকির এখনও স্বপ্ন দেখেন হয়তো একদিন তারও একটি পাকা ঘর হবে। যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলতে পারবেন, এটাই আমার ঠিকানা। এই আশাতেই তিনি সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন, যেকোনো সরকারি সহায়তার মাধ্যমে যেন তাকে একটি বাসযোগ্য ঘর প্রদান করা হয়। সেখমাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ডা. মো. আল মুক্তাদির রাব্বি বলেন- আমি ভিডিওতে দেখেছি, তারা সত্যিই অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থায় জীবনযাপন করছে। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমি ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো।
ছেঁড়া ছাউনির নিচে বেঁচে থাকার লড়াই
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
