পোপ লিও’কে নিয়ে সমালোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি মেলোনির আচরণে বিস্মিত এবং তাকে আরও সাহসী মনে করেছিলেন। অথচ সাম্প্রতিক ঘটনায় তিনি তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন। মেলোনি আগে ট্রাম্পের জোরালো সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং পোপের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প সম্প্রতি পোপ লিও চতুর্দশ’কে ‘অপরাধে দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন। কারণ পোপ ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। এছাড়া ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নিজেকে যিশুর মতো একটি এআই দিয়ে তৈরি ছবিও পোস্ট করেন, যা বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পোপ লিও পাল্টা বলেন, তিনি ট্রাম্পকে ভয় পান না এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাবেন। মেলোনি বলেন, ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ। তার শান্তির আহ্বান জানানো এবং যুদ্ধের নিন্দা করা স্বাভাবিক ও সঠিক। এই মন্তব্যের জবাবে ট্রাম্প ইতালীয় পত্রিকা কোরিয়েরে ডেলা ছেরা’কে বলেন, তিনি অনেক দিন ধরে মেলোনির সঙ্গে কথা বলেননি এবং তিনি ‘আগে যেমন ভেবেছিলেন, তেমন নন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেলোনি নাকি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন নন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার মার্কিন প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করছেন না।
একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত এই দুই নেতার সম্পর্ক এখন দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের অভিষেকে অংশ নেয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন মেলোনি। কিন্তু সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে মতবিরোধের কারণে সম্পর্কের এই পরিবর্তন ঘটেছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইতালি নাকি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার জন্য, অথচ নিজেরা তাতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইতালি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেবে না। তিনি বলেন, ইতালীয় সেনা বা বিমান ইরানে বোমা হামলায় অংশ নেবে এমনটা আমি কল্পনাও করি না। এটি শুধু সংবিধানগতভাবেই অসম্ভব নয়, এর কোনো রাজনৈতিক ইচ্ছাও নেই। এছাড়া তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতালির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে চাইলে আগে অনুমতি নিতে হবে এবং উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে হবে।
ট্রাম্পের এআই দিয়ে তৈরি ছবি পোস্টের পর বিভিন্ন খ্রিস্টান ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিশ্লেষকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। ধর্মতত্ত্ববিদ মাসিমো ফাজিওলি বলেন, এ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো দ্ব্যর্থতা নেই। এমনকি তিনি অ্যাডলফ হিটলার ও বেনিতো মুসোলিনির সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন। বৃটিশ বিশ্লেষক অস্টেন আইভারেই বলেন, এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া মার্কিন বিশপ সম্মেলনের সভাপতি আর্চবিশপ পল কোকলি বলেন, ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী নন পোপ, তিনি খ্রিস্টের প্রতিনিধি।
এমনকি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও পোপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের নিন্দা করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট- ইরান যুদ্ধ শুধু ভূরাজনীতি নয়, বিশ্ব রাজনীতি, ধর্মীয় অনুভূতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাব ফেলছে।
