ইরান যুদ্ধ শেষের দিকে: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ শেষের দিকে: ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘শেষের খুব কাছাকাছি’। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানে মুখোমুখি দ্বিতীয় দফা আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কোনো কোনো মিডিয়া খবর দিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন দু’দিনের মধ্যে এই বৈঠক হবে। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ চলমান থাকায় সমুদ্রপথে ইরানের ভেতরে-বাইরে প্রায় সব বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবরোধ দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত আছে। একই সময়ে ইসরাইল ও লেবানন ওয়াশিংটন ডিসিতে বিরল সরাসরি আলোচনায় বসেছে। তবে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলি হামলা চলছেই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করেছে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত আরও বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার দিকে যেতে পারে। ওদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোপ লিও’কে উদ্দেশ্য করে নতুন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, কেউ কি পোপ লিওকে বলবেন, গত দুই মাসে ইরান কমপক্ষে ৪২,০০০ নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে? ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকা ইজ ব্যাক!!!’। দুই দিন আগে পোপ লিওকে ‘অপরাধের ব্যাপারে দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ’ বলে সমালোচনা করেন ট্রাম্প। কারণ পোপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন।

পোপ লিও পাল্টা বলেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাবেন। তবে ইরানে ট্রাম্পের দাবি করা ৪২,০০০ মানুষ নিহতের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান সরকার বলছে, জানুয়ারির বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩১১৭। দেশের বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠী এই সংখ্যা প্রায় ৭,০০৭ বলে উল্লেখ করেছে। ইরান বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মাই সোতো বলেছেন, কমপক্ষে ৫,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা ২০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থাও জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ চলাচল আটকে দিয়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কৌশল হলো জাহাজগুলোকে ইরানের বন্দর থেকে বের হয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার পর শনাক্ত করে তাদের ঘুরিয়ে দেয়া। তিনি বলেন, শুধু জাহাজের বাধ্যতামূলক ট্র্যাকিং সিস্টেম নয়, আরও উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে জাহাজগুলোর উৎস শনাক্ত করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের সঙ্গে যুক্ত ৮টি তেলবাহী জাহাজকে থামিয়ে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে। মার্কিন বাহিনী প্রতিটি ক্ষেত্রে রেডিওর মাধ্যমে জাহাজগুলোর ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়। সব জাহাজই নির্দেশ মেনে চলে এবং কোথাও জোরপূর্বক জাহাজে ওঠার প্রয়োজন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সামরিক চাপ- দুই দিকেই সমানভাবে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন