সৈয়দ ইবরাহিমের জালিয়াতির বিরুদ্ধে ফরচুন শপিংমলের দোকান ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিকদের ‘মানববন্ধন’

সৈয়দ ইবরাহিমের জালিয়াতির বিরুদ্ধে ফরচুন শপিংমলের দোকান ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিকদের ‘মানববন্ধন’

ফন্ট সাইজ:

দি গ্লোবাল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড ডেভলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম ও ফরচুন ফাউন্ডেশনের এমডি কামরুল আরিফের দুর্নীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে ‘মানববন্ধন’ করেছেন ফরচুন শপিংমলের দোকান মালিক, সাধারণ ব্যবসায়ী ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা। রোববার দুপুরে ফরচুন শপিং মলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সৈয়দ ইবরাহিম ও কামরুল আরিফ অবৈধভাবে কোর্টের আদেশ অমান্য করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফরচুন শপিংমলের দোকান মালিক, সাধারণ ব্যবসায়ী ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিকদের সম্পত্তি হস্তান্তর না করে হয়রানি করছেন। চুক্তি অনুযায়ী কাজ সমাপ্ত না করে সাব-কবলা চুক্তির চেয়ে অধিক অর্থগ্রহণ ও আত্মসাৎ করে অত্মগোপনে রয়েছেন সৈয়দ ইবরাহিম। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিনা ভোটে এমপি হয়ে ফ্ল্যাট মলিক ও দোকান মালিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করেন ইবরাহিম। মানববন্ধনে ৯ দফা দাবি জানান বক্তারা। আগামী ১০ দিনের মধ্যে দাবি না মানলে সৈয়দ ইবরাহিমের রাজনৈতিক কার্যালয় ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছেন তারা।
৯ দফা দাবিগুলো হলো- ১. জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমমোক্তার নামা সাফকাওলা করা কমন স্পেস যেমন- ভবনের সামনে রাজউক কর্তৃক ছাড়কৃত ইউটিলিটি স্পেস, ভবনের ছাদ, কমিউনিটি হল, কমন পার্কিং ইত্যাদি ফেরৎ দিতে হবে। ২. সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধিত ফ্ল্যাটগুলো প্রকৃত মালিকের অনুকূলে রেজিস্ট্রেশন সম্পাদন করে দিতে হবে। ৩. ফ্ল্যাটের অসমাপ্ত কাজ যা ফ্ল্যাট মালিকগণন বাধ্য হয়ে নিজের অর্থায়নে সমাপ্ত করেছেন তার মূল্য নির্ধারণ করে ফ্ল্যাট ওনার্স এসোসিয়েশনের তহবিলে ফেরত দিতে হবে। ৪. চুক্তি মোতাবেক ফ্ল্যাটের সকল সুবিধা প্রদান করতে হবে। ৫. ফ্ল্যাট নং ৯/ই ক্রেতা মঈনুল ইসলামসহ যে সকল সম্পত্তি সম্পূর্ণ জ্ঞাতসারে প্রকৃত মালিককে না জানিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নামে দলিল সম্পাদন করেছেন তা প্রকৃত মালিক বরাবরে ফেরত দিতে হবে। ৬. ইব্রাহীম নিজের দুর্নীতি ঢাকার জন্য তার নিজস্ব জালিয়াত ও প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা নাসিরউদ্দিন দুলালের মাধ্যমে জনৈক ভুয়া মামলাবাজ সাইফুল ইসলাম ওরফে হাতকাটা বাহারের মাধ্যমে শপিংমল ও অ্যাপার্টমেন্টের নিরীহ ১১ জন সদস্যদের বিরুদ্ধে ২৮টি মিথ্যা মামলার অন্তর্ভুক্ত করার দায়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৭. পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসএম ইব্রাহীম কর্তৃক ডিজিএফআই দ্বারা প্রতিপক্ষকে হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করত হবে। ৮. এসএম ইব্রাহীমগনদের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট ক্রেতা মঈনুল ইসলামের দায়ের করা সিআর মামলা যা ইতিপূর্বে পিবিআই তদন্ত করে এসএম ইব্রাহীম দি গ্লোবাল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড ডেভলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তা নারাজির প্রেক্ষিতে বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তধীন, তার সুষ্ঠ তদন্ত করে, এসএম ইব্রাহীমকে ‘দি গ্লোবাল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড ডেভলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ৯. ফরচুন শপিংমলের অন্যান্য এমডিদের চুক্তি মোতাবেক পাওনা টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ফরচুন ফাউন্ডেশন লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফরচুন শপিংমল দোকান মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম গাউস আযম চঞ্চল, বক্তব্য রাখেন দোকান মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির, ফরচুর ফাউন্ডেশনের পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, অ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি মোতাহার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম ভূইয়া। মানববন্ধন পরিচালনা করেন ফরচুন শপিংমল দোকান মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়া।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন