তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল কাণ্ড নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে রীতিমতো উত্তাল হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় প্রবীণ নেতা শোভনদেবকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছেছিলেন। পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করে দলের তরফে একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে। ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু স্পিকার সেই চিঠি গ্রহণ করেননি। এর পরেই উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা ওই চিঠির সঙ্গে দেওয়া বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকার পুলিশে অভিযোগ করেন। পরে তদন্তভার নেয় সিআিইডি। সিআইডি সই করা রেজলিউশনের কপির খোঁজে মমতার বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি করে। অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও রেজলিউশন বুকের খোঁজ পাননি। অবশেষে সেই রিজলিউশন বুকের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেসের বালিগঞ্জের বিধায়ক তথা প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে সেই গুরুত্বপূর্ণ নথিটি। এটির সন্ধান জানতে পুলিশ শনিবার শোভনদেবের বাড়ি যান। সূত্রের খবর, প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে ওই প্রবীণ নেতার সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। শেষপযর্ন্ত শোভনদেব ওই কপি কর্মকর্তাদের হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন।
প্রবীণ তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, সইয়ের দিন একজন বাদে তৃণমূল বিধায়কদের সকলেই উপস্থিত ছিলেন। বিদ্রোহী নেতারা চক্রান্ত করেছেন বলে তিনি এদিন অভিযোগ করেন। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'কোর্টে কেস আছে। আমি একটা শব্দও বলব না। তবে ২০০ শতাংশ সহযোগিতা করেছি। আগামী দিনেও করব। এর বেশি কিছু বলার নেই। তবে এ সব যারা করেছেন, বিশেষ ইন্টারেস্ট নিয়ে এসেই করেছেন। আমাদের ভাবনার মধ্যে এসব ছিল না।'
তিনি আরও বলেন, 'যারা স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েছেন, তারাই এগুলো করে দিয়ে গিয়েছেন।
সই জাল কাণ্ড নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের শুরু হয়। একে একে প্রথমে ৫৯ জন এবং পরে আরও ৬ জন বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখান। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন স্পিকার। নিজেদের 'আসল তৃণমূল' হিসেবে দাবি করেন বিদ্রোহীদের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, এই মুহূর্তে তারাই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ঘোষিত। আদালতও এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে।
