সাবেক র্যাব কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের নির্দেশে একটি বস্তা গাড়ি থেকে নামাতে গিয়ে তার ভেতরে লাশ দেখতে পেয়েছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্য ইমরুল। তিনি দাবি করেন, ওই লাশ রেললাইনের পাশে রেখে আসার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে একটি ট্রেন অতিক্রম করে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে সাক্ষ্য দেন ইমরুল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনি এ সাক্ষ্য দেন।
জবানবন্দিতে ইমরুল বলেন, তিনি জিয়াউল আহসানের রানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। দায়িত্ব গ্রহণের ২০ থেকে ২৫ দিনের মাথায় এক রাতে জিয়াউল আহসানের ফোন পেয়ে তিনি র্যাব-১ কার্যালয়ের সামনে যান। সেখানে দুটি কালো মাইক্রোবাস দেখতে পান। জিয়াউল আহসানের নির্দেশে একটি মাইক্রোবাসে ওঠেন, যেখানে জিয়াউল আহসান, র্যাব-১ এর সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ এবং ক্যাপ্টেন কাওছার উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক্রোবাসটি উত্তরা জসীমউদ্দীন এলাকা হয়ে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ ওভারব্রিজ সংলগ্ন স্থানে গিয়ে থামে। এরপর জিয়াউল আহসান তাকে গাড়ির পেছনে থাকা একটি বস্তা নামানোর নির্দেশ দেন।
ইমরুল বলেন, “আমি বস্তাটি নামাতে গিয়ে দেখি ভেতরে গেঞ্জি পরা একটি ঠান্ডা লাশ রয়েছে। পরে সেটি রেললাইনের পাশে রেখে আবার মাইক্রোবাসে উঠে যাই। জিয়াউল আহসান তখন রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনিও গাড়িতে ওঠেন। পরে আমরা সেখান দিয়ে একটি ট্রেন যেতে দেখি।”
তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার পর কয়েকদিন তিনি স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারেননি। সারাক্ষণ চিন্তা করতেন, কোথায় এসে কী ধরনের চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন।
জবানবন্দিতে ইমরুল আরও দাবি করেন, জিয়াউল আহসানের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তারিক সিদ্দিকের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও জিয়াউল আহসানের সুসম্পর্ক ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াতের সময় জিয়াউল আহসানের গাড়ি তল্লাশি করা হতো না বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া সুন্দরবনে পরিচালিত আরেকটি অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ইমরুল বলেন, ওই অভিযানে র্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মজিবুর রহমান, কমান্ডার সোহায়েল এবং র্যাব-৮ এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে জঙ্গলের ভেতর থেকে গুলির শব্দ শোনা গেলে তাদের পাল্টা গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে গুলি বন্ধের নির্দেশ এলে তারা গুলি থামান। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করেন জিয়াউল আহসান সাক্ষ্যে এসব তথ্য দেন তার রানার বা বডি গার্ড সেনা সদস্য ইমরুল।
