সময়মতো বিলের কাগজ না পাওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেছেন। এর পাল্টা জবাব দিয়েছে সরকারি দল। সংসদ সদস্য হিসেবে কিছু না বুঝে হ্যাঁ বলি এটা হবে অপরাধ, যদি না বুঝে নাও বলি এটাও হবে অপরাধ এইজন্য চুপ থেকেছেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা। আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটাননি বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী। শুক্রবার জাতীয় সংসদে ব্যাংক রেজ্যুলেশন বিল পাসের পর সংসদে দাঁড়িয়ে তারা সব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনদিন আগে আমাদেরকে ডকুমেন্টগুলো দেয়ার কথা। সমস্যা, বাস্তবতা সবগুলো কনসিডার করে বলা হয়েছিল মিনিমাম একদিন আগে দেয়া হবে, এনসিওর করা হবে। আমি তো অর্থনীতির ছাত্র না, যার কারণে এতগুলো ডকুমেন্টস এখানে টেবিলে আসার পরে আমাদেরকে দেয়া হয়েছে। একদিকে সংসদ চলছে, আরেক দিকে ডকুমেন্টগুলো এখানে রেখে দেয়া হয়েছে, যেহেতু দুর্বল ছাত্র এজন্য কিছুই এখন উপরে হাত তুলবো না নিচে নামাবো এটাও বুঝতে পারি না। এখন যদি সংসদ সদস্য হিসেবে কিছু না বুঝে হ্যাঁ বলি এটা হবে অপরাধ, যদি না বুঝে নাও বলি এটাও হবে অপরাধ, এইজন্য আমরা চুপ থেকেছি, আমাদের অবস্থান এখন তাই।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি জানি না এখানে বিজ্ঞ সরকারি দলের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ যারা আছেন তারা হয়তো সবাই অর্থনীতির ছাত্র এবং খুবই স্মার্ট, খুবই ট্যালেন্টেড স্টুডেন্ট ছিলেন, যার কারণে কাগজ দেখামাত্র ভেতরে কি আছে তারা হয়তো এটা বুঝে ফেলেছেন, আমরা বুঝতে পারি নাই। এটা আমাদের অক্ষমতা, এখন আমরা কী করবো আমাদেরকে একটু পরামর্শ দেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাঁড়িয়ে সংসদকে বলেন, সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি এ সমস্ত কর্ম নির্ধারণ করছে বিশেষ কমিটি যেটা আপনি করে দিয়েছেন। এই আইনগুলো পর্যালোচনা করার জন্য সংসদে বিশেষ এই কমিটিতে আমাদের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন সাহেব সভাপতি ছিলেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন সদস্য ছিলেন। আইনমন্ত্রীসহ সবাই এটা আলোচনা পরিচালনা করে যে সকল অধ্যাদেশ সর্বসম্মতিক্রমে এজ ইট ইজ পাস করার জন্য ডিসাইডেড হয়েছে, তার মধ্যে এই বিলটিও ছিল। অর্থবিল সহ আর কিছু বিলে নোট অফ ডিসেন্ট ছিল, আলোচনার দাবি রেখেছিলেন, বিরোধীদলীয় সদস্য সেটি ইতিমধ্যে আপনি দুই মিনিটের জায়গায় ১০ মিনিট ১৫ মিনিট যেভাবে আপনি উপযুক্ত মনে করেছেন আলোচনার জন্য দিয়েছেন, এখন যদি এ পর্যায়ে বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর বলেন আমি কিছু বুঝিলাম না, যদি আপত্তি দিতেই হতো উত্থাপনের পর তারপরে সেকেন্ড রিডিংয়ে বিবেচনার সময় তো! সেজন্য আমি ধন্যবাদ জানাই বিরোধীদলীয় নেতাকে, সকল বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যকে। যে, আপনারা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন, হ্যাঁ-ও বুঝে দিয়েছেন না-ও বুঝে দিয়েছেন, এই অপরিসীম সহযোগিতার জন্য সরকারি দলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এ সময় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম সংসদকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- বিশেষ কমিটির কথা, বিশেষ কমিটিতে এই আলোচনা হয় নাই যে, টেবিলে টেবিলে যখন সংসদ চলবে তখন বিলগুলো আইনে হাজির করা হবে এবং এটা তিনদিন আগেই দেয়ার কথা ছিল। যেগুলোর আপত্তি আমরা জানিয়েছি ওটা ছাড়াও এই বিলগুলোর ব্যাপারে সংসদে কথা বলার সুযোগ আছে। সুতরাং আমাদের কথা বলা এটা আমাদের অধিকার। এ সুযোগ থাকা উচিত ছিল আরকি।
এরপর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদকে বলেন, মাননীয় সদস্য বলেছেন- সবগুলো উপস্থাপনের কথা ছিল। সো আমি ওই বিশেষ কমিটির সদস্য হিসেবে এইটা রিকালেক্ট করতে পারি না। আমার মনে হচ্ছে না- যে ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল। দ্বিতীয়ত, হলো আর্টিকেল ৯৩ অব দি কনস্টিটিউশন, সেখানে বলা আছে তিনটা অপশন। নাম্বার ওয়ান ৩০ দিনের মধ্যে বিল উপস্থাপন করতে হবে। আমরা সবগুলো ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো আপনাদের সামনে আনতে হবে। আমরা এনেছি। নাম্বার টু অপশন হলো আমরা কোনটা উত্থাপন করবো? যদি কোনটা উত্থাপন না করি তাহলে সেটা ল্যাপস হবে। যেটা উত্থাপন করা হবে সেটার আবার দুইটা ফ্যাক্ট আছে। এক বিল আকারে অনুমোদন হবে অথবা অনুমোদন হবে না। শব্দগুলো এভাবে দেওয়া আছে। তো যেগুলো উপস্থাপন করা হবে না ওখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো আমরা উপস্থাপন করিনি। ওগুলোর ওপর আলোচনার সুযোগ রুলস অফ বিজনেস এবং আর্টিকেল ৯৩-তে নাই। যেগুলো আমরা উপস্থাপন করেছি সেগুলো বিল আকারে যেটা পাস হয়েছে পাস হয়েছে। যদি কোনটা পাস না হতো তাহলে ওইটা অনুনমোদন হিসেবে গণ্য হয়ে ওইটা সাইডলাইনে চলে যেত। এটা হল আর্টিকেল ৯৩ রেড উইথ সংসদের যে কার্যপ্রণালী বিধি আছে সেইটা। আমরা আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটাইনি।
জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি তো বিশেষ কমিটিতে ছিলাম না, আমি বলতে পারবো না। যারা ছিলেন তারা এটা এঙপ্লেইন করবেন। কিন্তু আপনার সভাপতিত্বে আমরা যখন কার্য উপদেষ্টা কমিটির মিটিং করি তখন এবিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। অনেক আলোচনার পরে দুটা জিনিস একেবারেই স্পষ্ট হয়েছে আমি যেটা বলেছি। একটা হলো- সবগুলো বিল আসবে। দুই নম্বর হলো যে, মিনিমাম একদিন আগে আমাদেরকে ডকুমেন্টগুলা দেয়া হবে। এই দুইটার বাইরে আপনি কোন রুলিং দেননি। দুই নম্বর হচ্ছে, আমি একান্ত শ্রদ্ধা রেখে বলবো যারা বিশেষ কমিটির সদস্য ছিলেন তারা খুবই বিজ্ঞ তারা সরকারি দল থেকেও ছিলেন, বিরোধী দল থেকেও ছিলেন। তাদের রায় যদি চূড়ান্ত হয়ে থাকে তাহলে আর এখানে কাগজপত্রেরও দরকার নেই। তাতে আমাদের যে অধিকার, শুধু অধিকার না দায়িত্বের যে
বিষয়টা আছে- সেইটা পালন হবে কীভাবে?
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় স্পিকার প্রত্যেকটা বিল উত্থাপনের পরে এই কথাগুলো বিরোধীদলীয় নেতা বলতে পারতেন। আপনি যেমন উত্থাপনের অনুমতি দিচ্ছেন তখন ইউ হ্যাভ অলরেডি কন্ডন দি টাইম। এটাই হচ্ছে- মাননীয় স্পিকার রুলস অফ প্রসিডিউর।
সর্বশেষ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাননীয় বিরোধী দলের নেতা যে কথাগুলো বলেছেন, আমিও তার সঙ্গে একমত। একচুয়ালি বিল শেষ মুহূর্তে পেলে এটার উপরে আলোচনা করা ডিফিকাল্ট। কিন্তু এই যে সিচুয়েশনটা হলো, এটার প্রধান কারণ হলো যে আজকের মধ্যে আমাদেরকে বিলগুলো ফাইনালাইজ করতে হবে, পাস করতে হবে। এই টাইম লিমিটের কারণে ৩০ দিন। না হলে তো আমরা আরও ১৫ দিন বা এক মাস সময় নিতে পারতাম। এই টাইম কনস্ট্যান্টের কারণেই আমাদেরকে দ্রুত বিলগুলো পাস করতে হয়েছে। বিশেষ কমিটিতে যা সব সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো সবই পালন করা হয়েছে। কেবল মাত্র টাইমটা আমি স্পিকার হিসেবে কন্ডন করেছি। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য আমরা লক্ষ্য রাখবো যাতে বিল যথাসময়ে বা অন্তত দুই-তিনদিন অন্তত একদিন আগে যাতে সদস্যরা পান।
