চট্টগ্রাম জেলা, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের মধ্যে ২১টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি’র প্রার্থীরা। আর দু’টিতে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে জামায়াতের হেভিওয়েট নেতা হামিদুর রহমান আযাদও পরাজিত হয়েছেন। ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা কর্নেল অলির আসনে তার ছেলেও সামান্য ভোটে হেরে গেছেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। এদিকে, হেভিওয়েট নেতা আসলাম চৌধুরী জিতলেও ঋণখেলাপি হওয়ায় ফলাফল স্থগিত থাকবে। একই কারণে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে জয়ী হওয়া ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের ফলাফলও আপাতত স্থগিত থাকবে।
চট্টগ্রামের আসনগুলোতে বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. প্রার্থী আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট। অর্থাৎ ৯৮ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধান। ফটিকছড়ির বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরও জিতেছেন বড় ব্যবধানে। তিনি জামায়াত প্রার্থী থেকে ৭৬ হাজার ৩৮৫ ভোট বেশি পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসন: বিএনপি মনোনীত নুরুল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান পেয়েছেন ৮১ হাজার ২২৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন: বিএনপি মনোনীত সরওয়ার আলমগীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তিনি নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও তার ফলাফল স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন: বিএনপি মনোনীত মোস্তফা কামাল পাশা পেয়েছেন ৭২ হাজার ৫১৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দিন পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮১৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন: ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। বেসরকারিভাবে জয়লাভ করলেও তার ফলাফল স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন: বিএনপি’র মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নাসির উদ্দীন পেয়েছেন ২১ হাজার ৯৫১ ভোট।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন: বিএনপি’র গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ইলিয়াছ নূরী পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। জামায়াতের মো. শাহাজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২২ হাজার ১১৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন: বিএনপি’র হুম্মাম কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২৪২ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৮৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন: বিএনপি’র এরশাদ উল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. মো. আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩০ ভোট।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন: বিএনপি’র আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. এ কে এম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসন: বিএনপি’র সাঈদ আল নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন: বিএনপি’র আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৯ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৮১ ভোট।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন: বিএনপি’র এনামুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৭৭৭ ভোট এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪২ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন: বিএনপি’র সরওয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৬০ ভোট। জামায়াতের মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসন: বিএনপি’র জসিম উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপি’র ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন: জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র নাজমুল মোস্তফা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৩১ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন: জামায়াতের মো. জহিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত আলী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট।
কক্সবাজারের চারটি আসনের সবগুলোতেই জয় পেয়েছে বিএনপি।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন: বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আব্দুল্লাহ আল ফারুখ পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন: বিএনপি’র প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট।
কক্সবাজার-৩ আসন: বিএনপি’র লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৬০ ভোট। জামায়াতের শহীদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট।
কক্সবাজার-৪ আসন: বিএনপি’র শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৯৯৩ ভোট। জামায়াতের নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৮ ভোট। এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন আসনেই বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে বিএনপি’র প্রার্থীরা।
বান্দরবান আসন: বিএনপি’র সাচিংপ্রু জেরী বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি’র আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট।
রাঙ্গামাটি আসন: বিএনপি’র দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৪ ভোট। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৪২ ভোট।
খাগড়াছড়ি আসন: বিএনপি’র ওয়াদুদ ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ২১২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধর্মজ্যোতি চাকমা পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৭৯ ভোট। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান (ফুটবল) পেয়েছেন ৫২ হাজার ৮৭৯ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী মো. এয়াকুব আলী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৬২১ ভোট।
