স্কুল ক্রিকেট নিয়ে হৃদয় ও শান্তর যে অনুরোধ

স্কুল ক্রিকেট নিয়ে হৃদয় ও শান্তর যে অনুরোধ

ফন্ট সাইজ:

২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে আজ। গতকাল টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন ও স্কলারশিপ ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের দুই আইকন ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সেখানে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে দু’জনে স্কুল ক্রিকেটের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে হৃদয় অনুরোধ জানান, বৃষ্টির কারণে কোনো খুদে ক্রিকেটারের স্বপ্ন যেন ব্যাহত না হয়। হৃদয় বলেন, ‘আমি সব সময় স্কুল ক্রিকেট ফলো করি। যদি ভুল না করি, এক-দুই বছর আগে বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি, তখন টসে চ্যাম্পিয়ন ঠিক হয়েছে। এমন একটা টুর্নামেন্ট যেখান থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে আসে এবং ভবিষ্যতে উঠে আসবে। আমি চাই টুর্নামেন্টটি বৃষ্টি মৌসুমের আগেই শেষ করা হোক। টসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে মাঠে খেলে জয়ী হওয়ার আনন্দই আলাদা।’ স্কুলে পড়াশুনাকালীন বগুড়ার পুলিশ লাইনস দলের হয়ে চার বছর স্কুল ক্রিকেট খেলেন হৃদয়। একবার চ্যাম্পিয়নও হওয়ার সুখস্মৃতি আছে ডানহাতি এ ব্যাটারের। হৃদয় সেসব স্মৃতি ২৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘একই ব্যাট, একই হেলমেট পরে ব্যাটিংয়ে নামার জন্য সবাই অনেক তাড়াহুড়ো করতাম। খেলার সরঞ্জাম খুব বেশি ছিল না, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আসার পর যেভাবে সহজে পাওয়া গেছে। তবে এসবের মধ্যেও অনেক রোমাঞ্চ থাকে।’
স্কুল ক্রিকেটের নাম শুনলেই হৃদয় পেছনে ফিরে যান। স্কুল ক্রিকেটকে নিজের জীবনের ভিত্তি উল্লেখ করে হৃদয় বলেন, ‘সত্যি বলতে স্কুল ক্রিকেটের কথা বলতে গেলে আমি একটু ইমোশনাল হয়ে পড়ি। বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল থেকে আমার পড়াশোনা এবং ক্রিকেটের হাতেখড়ি। ক্লাস সিক্স থেকেই আমি এই টুর্নামেন্ট খেলেছি। আজকের তালিকায় (স্কলারশিপ) আমার স্কুলের তিনজন প্লেয়ারকে দেখে খুব ভালো লাগছে।’ স্কুল ক্রিকেট দিয়ে ক্রিকেটের হাতেখড়ি জাতীয় দলের নাজমুল হোসেন শান্তের। এরপর বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এখন জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক তিনি। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের থাকাকালীন স্মৃতি মনে করে শান্ত বলেন, ‘স্কুল ক্রিকেটের একটা সফর ছিল কেরালাতে। ওই টুর্নামেন্টটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ আমি সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলাম। তারপর অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খুব তাড়াতাড়ি চলে এসেছিলাম। আমি মনে করি স্কুল ক্রিকেটটাকে বড় করে দেখা উচিত।’ খুদে ক্রিকেটারদের দেশের বাহিরে সফরে পাঠানোর অনুরোধ টেস্ট অধিনায়কের। এ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘স্কুল ক্রিকেট শুধু এনজয়মেন্ট নয়, এটা একটা বড় সুযোগ। এখান থেকেই বন্ধুত্ব তৈরি হয়, রাইভালরি শুরু হয়। আমার একটা রিকোয়েস্ট থাকবে যেন স্কুল ক্রিকেটের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে নিয়মিত দেশের বাইরে ট্যুরের ব্যবস্থা করা হয়। এতে করে বড় মঞ্চে খেলার ভয়টা কেটে যায়।’ এবারের আসরে ৩৫০টি স্কুলের ৮,৭০০ শিক্ষার্থী অংশ নেবে। তাদের উৎসাহ দিতে স্কলারশিপের পরিমাণ ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। মোট ২৮ জন উদীয়মান ক্রিকেটারকে (ব্যাটসম্যান, পেসার ও স্পিনার) এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া সারা বছর তাদের ইকুইপমেন্ট ও গ্রুমিং সাপোর্ট দেয়ার জন্য একটি ‘ইনকিউবেশন প্রোগ্রাম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবি’র। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট প্রধান হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘আমরা চাই স্কুলগুলোর মধ্যে সেই পুরনো রাইভালরি ফিরিয়ে আনতে। সবাই যে ক্রিকেটার হবে তা নয়, কিন্তু স্কুলে খেলার যে স্পোর্টিং কালচার, সেটা আমরা পুনরুজ্জীবিত করতে চাই।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন